চুয়াডাঙ্গায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাড়িছাড়া
চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের চার নেতাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করে সদর থানার পুলিশ। পরে রোববার তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর থেকেই নেতা-কর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেক নেতা-কর্মী এখন বাড়িছাড়া।
বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশে যেতে বাধা দিতে পুলিশ মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করছে।
যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তাঁরা হলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম (৪৫), চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাজেদুর আলম মেহেদী (২২), সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান (৩৫), জেলা যুবদলের গ্রামবিষয়ক সম্পাদক মো. আসাদুল হক (৪৮)।
সদর থানার উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে রোববার মামলা করেন। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান লালন বলেন, কাউকে হয়রানি নয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এ অভিযান চলছে।
মামলায় আরও যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা হলেন জেলা যুবদলের সভাপতি শরীফুজ্জামান সিজার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশিদ; জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোমিন, যুগ্ম সম্পাদক মো. ইকবাল, ছোটন ইসলাম; সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান এবং সদস্যসচিব ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর রিন্টু মহলদার; পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান; মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান; আলুকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমির হোসেন, সহসভাপতি রোকনুজ্জামান।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকার গণসমাবেশ বানচাল করতে পুলিশ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক মামলা দিয়ে ও গ্রেপ্তার করে তাঁদের হয়রানি করছে।