সকাল ১০টার দিকে ধামদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কথা হয় নূরজাহান বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রে কোনো ঝামেলা নেই। সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।’ বেলা ১১টার দিকে আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কথা হয় তরুণ ভোটার সোহানা নিপার সঙ্গে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে সংশয় ছিল। তবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।

দুপুর ১২টার দিকে রামশিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার সিহাব সাগর নামের এক তরুণ ভোটার বলেন, জীবনে প্রথম ভোট দিতে এসেছেন। লাইনে থেকে গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। তবে ভোটের পরিবেশ ভালো।


বয়স্ক ভোটারদের ভোগান্তি

ইভিএমে ভোট দিতে বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বয়স্ক ভোটাররা বেশ সমস্যায় পড়েন। সকাল নয়টার দিকে ধামদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার নুর নাহার বেগম বলেন, ‘এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। তবে ইভিএমে আঙুলের ছাপ মেলাতে কষ্ট হয়েছে।’

চুড়াইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাহেরা বানু (৬০) ও শুক্কুরী বেগম (৬২) জানিয়েছেন, এর আগে কখনো তাঁরা মেশিনে ভোট দেননি। কেন্দ্রে ঢোকার পর মেশিনে আঙুলের ছাপ মিলছিল না। আঙুল লিকুইড দিয়ে মোছার পর পাঁচ মিনিট চেষ্টা করে ছাপ নেয়। কীভাবে ভোট দিতে হবে, সেটিও তাঁদের জানা ছিল না। কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা তাঁদের ভোট দিতে শিখিয়ে দিয়েছেন। সেভাবেই তাঁরা ভোট দিয়েছেন।

সুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার রেহানা বেগম বলেন, এর আগে তিনি অনেক ভোট দিয়েছেন। মেশিনে এটাই তাঁর প্রথম ভোট। কীভাবে কী করবেন, তাঁর জানা ছিল না। তবে কেন্দ্রের লোকজন তাঁকে শিখিয়ে দিয়েছেন।

আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার আবদু আহাদ বলেন, ভোটারদের চাপ নেই। কেন্দ্রে এসে মেশিনে ভোট দিতে সমস্যা হচ্ছে।

কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এস এম আবদুর রহমান বলেন, ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তরুণেরা ইভিএমে সহজেই ভোট দিতে পারছেন। তবে বয়স্ক নারী ও পুরুষেরা ইভিএমে অভ্যস্ত না থাকায় কিছুটা সমস্যায় পড়ছেন। তবে তাঁদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ভোটের পরিবেশ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ইউপির ৯টি ওয়ার্ডের সব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ তৎপর রয়েছে। মানুষ বেশ উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে আসছেন। বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল।

চলতি বছরের ৫ মে অসুস্থতার কারণে ইউনিয়নটির বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান তোতা মিয়ার মৃত্যু হয়। এতে চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়। এরপর এখানে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন