বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আন্দোলন শিথিল, আগামী পাঁচ দিন ক্লাস-পরীক্ষা চলবে
পাঁচ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে চলমান সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজট এড়াতে পাঠদান-পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি সমাধান না হলে ১০ মে থেকে তাঁরা কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আজ রোববার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনরত সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক মুস্তাকিম বিল্লাহ।
মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার উপাচার্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। সেখানে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আগামী পাঁচ দিন একাডেমিক কার্যক্রম চালাবেন। তবে কোনো দাপ্তরিক কাজ করবেন না শিক্ষকেরা।’
মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাইউম বলেন, ‘৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না হলে আমরা পুনরায় কঠোর আন্দোলনে যাব। তবে শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে আমাদের আন্দোলন চলবে।’
এর আগে গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে এ আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষকেরা প্রথমে কর্মবিরতি, শাটডাউন এবং সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা এতে নতুন করে সেশনজটের আশঙ্কায় আছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, এখানকার ৬০ শিক্ষকের সব যোগ্যতা অর্জনের পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের পদোন্নতি দিচ্ছে না। এতে শিক্ষকেরা তাঁদের কাজের মূল্যায়ন থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদাসীনতাকে দায়ী করেন শিক্ষকেরা। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নেমেছেন।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে মাত্র একজন অধ্যাপক রয়েছেন। প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পরও শিক্ষকসংকট প্রকট। প্রতিবছর শিক্ষার্থী ও বিভাগ বাড়লেও পদোন্নতির প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন ৬০ জন শিক্ষক। এর মধ্যে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৬ জন প্রভাষক।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তৌফিক আলম আন্দোলনরত শিক্ষকদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘এতে কারও গাফিলতি আছে বলে আমার মনে হয় না। শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতাপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।’