পুনর্মিলনীতে গান, স্মৃতিচারণা, আড্ডায় মুখর রাজবাড়ীর তমিজুদ্দিন খান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর তমিজুদ্দিন খান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হয়েছে। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয় চত্বরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. শফিউল্লাহ।
‘এসো মিলি সখা প্রাণের স্পন্দনে, মিলনমেলায় হবে দেখা বিদ্যালয়ে’ স্লোগানে বিদ্যালয়ের এসএসসি ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ সালের ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবে মেতে ওঠেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর পরিচিত মুখগুলো কাছে পেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁরা। সবাই যেন খুঁজে ফিরছিলেন পুরোনো সব স্মৃতি। গান, স্মৃতিচারণা, আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিউল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি। আজকের অনুষ্ঠানে শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অতিথি। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। বিদ্যালয়ের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, মন্ত্রণালয়সহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে কর্মরত আছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও লেখাপড়ায় জেলার মধ্যে কৃতিত্ব অর্জন করছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী আছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এস এম মুসা বলেন, ‘এ ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সব সময় হয় না বললে চলে। তমিজুদ্দিন খান বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা—সব ক্ষেত্রেই জেলার মধ্যে এগিয়ে আছে। আজকের এই দিনটি অত্যন্ত সুন্দর এবং ভালো মনে হচ্ছে। এত বড় অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া মেয়েদের পক্ষে অনেক কষ্টকর। তার পরও সুন্দর আয়োজন করে তাঁরাই সেরা, আবারও তা দেখিয়ে দিলেন। আমার প্রত্যাশা, একটি বাসযোগ্য সুস্থ, সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে আপনাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ বিদ্যালয়ের বয়স ৬৪ বছর। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ পুরো মিলনায়তন সাজানো হয়েছে। দুই শতাধিক প্রাক্তন ছাত্রী এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, শিক্ষকদের সম্মাননা, স্মৃতিচারণা, কেক কাটা, র্যাফল ড্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
পুনর্মিলনীতে আসা এসএসসি ২০০৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী লুবনা হক বলেন, ‘প্রায় ২৩ বছর পর বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসেছি। এখানে এসে অনেক সিনিয়র আপুদের কাছে পেলাম, সহপাঠীসহ জুনিয়রদেরও কাছে পেলাম। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বর্তমান শিক্ষকদের কাছে পেয়েছি। আমার কাছে অনুষ্ঠানটি খুবই ভালো লাগছে। আমার মতে, এ ধরনের অনুষ্ঠান মাঝেমধ্যে হওয়া উচিত।’
এসএসসি ২০০৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাসমা আক্তার বলেন, ‘আমার মা এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমার খালামণি, বড় আপু পড়াশোনা করেছে এখানে। বর্তমানে আমার মেয়েও এখানে পড়াশোনা করছে। এমন একটি অনুষ্ঠানে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। অনেক স্যারকে কাছে পেলাম, সিনিয়র আপুদেরও কাছে পেলাম। আজকের মধ্যে অনেককে ভবিষ্যতে পাব কি না, জানি না। তবে মাঝেমধ্যে এ ধরনের মিলনমেলার আয়োজন করা উচিত।’