খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে জেলা কমিটির সব যুগ্ম আহ্বায়কসহ ১৫ থেকে ২০ জনকে নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক শুরু হয়েছিল। বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পরই নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ সদস্য বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে অভিযান শুরু করেন। অভিযানের কারণে সন্ধ্যা ছয়টা থকে রাত নয়টা পর্যন্ত কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন বিএনপি নেতারা।

বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, সাংগঠনিক বৈঠক চলাকালে শতাধিক পুলিশ সদস্য তাঁদের কার্যালয়ের সামনে মহড়া দিতে থাকেন। কার্যালয়ের একটি কক্ষে আলোচনা করার সময় তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের কয়েকজন নেতা–কর্মীকে গেটের সামনে থেকে পুলিশ আটক করেছে। তাঁদের কাছ থেকে নাকি পিস্তল-ককটেল জব্দ করেছে। এ সময় এগিয়ে যাওয়ায় খায়রুল কবিরকেও পুলিশ আটক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি কোনোরকমে সেখান থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠে চলে যেতে সক্ষম হন। এ পর্যন্ত তাঁদের অন্তত ১০ নেতা–কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠক চলাকালে কার্যালয়ের সামনে একটি বস্তায় থাকা কিছু ককটেলসদৃশ বস্তু জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় নরসিংদী শহর বিএনপির সদস্য মো. সোহেল রানাসহ ছয় কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এরপর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম কার্যালয় থেকে বেরিয়ে নিজ গাড়িতে ওঠার সময় তাঁর কাছে একটি রিভলবার পাওয়া যায়। এ সময় তিনি রিভলবারটিকে বৈধ দাবি করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ কারণে তাঁকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘আমরা কি নিজ কার্যালয়ের ভেতরে সাংগঠনিক বৈঠকও করতে পারব না? আসছে ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ বানচাল করতে ও আমাদের নেতা–কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিতে এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের নাটক করেছে পুলিশ। আমাদের ১০–১২ নেতা–কর্মীকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ। তারা একের পর এক মামলা দিয়ে আমাদের থামিয়ে দিতে চায়।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের কাছে নাশকতার গোপন তথ্য ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানের সময় একটি রিভলবার, ককটেলসদৃশ বস্তু ও অর্ধশতাধিক মশাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযান এখনো চলছে, অভিযান শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।’