‘ব্লাড ব্যাংক নীলফামারীর’ প্রতিষ্ঠাতা নীলফামারী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. নূরুল করিম। তিনি বলেন, ব্লাড ব্যাংক নীলফামারী ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক একটি গ্রুপ। ফেসবুকে এর সদস্য সংখ্যা ১৩ হাজারের বেশি। তাঁদের কোনো নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই। যাঁর যখন প্রয়োজন হয় তখন সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আধঘণ্টার মধ্যে রক্ত সংগ্রহ করে দেন। তিনিও এ পর্যন্ত ৩৯ বার স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়েছেন। তাঁদের দেখে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে ফেসবুকের মাধ্যমে ব্লাড ব্যাংক করেছেন অনেকে। তাঁদের রক্তদাতাদের বেশির ভাগই নীলফামারী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।

ব্লাড ব্যাংক নীলফামারীর সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. নূরুল করিম বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে রক্ত দাতাদের রক্ত দেওয়ার পর বিশ্রামের জায়গা নেই। এটা হওয়া খুবই জরুরি। মানুষজন অসচেতন। একটা সিজারের রোগীর জন্য শেষ মুহূর্তে রক্ত চায়। অথচ একদিন আগে বলতে পারলে আমাদের জন্য বিষয়টা খুব সহজ হয়।’ 

জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের ফকির পাড়া গ্রামের মামুন আলী শাহ ফকির বলেন, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি তাঁর ভাবি পারভিন আক্তার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। তাঁকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাঁর হার্টের অসুখ ধরা পড়ে। চিকিৎসক বললেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে। এ জন্য রক্ত লাগবে ৫ ব্যাগ। ভাবির রক্তের গ্রুপ ‘ও’ নেগেটিভ। ওই রক্ত সংগ্রহ করা খুবই দুষ্কর ব্যাপার ছিল। তার ওপর ঢাকা শহরে তাঁরা নতুন। এ অবস্থায় তিনি নূরুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি সময় নিলেন ৬ ঘণ্টা। ৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ জন ব্যক্তি রক্ত দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা, সিলেট, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও নীলফামারীর মানুষ ছিলেন। তাঁদের অনেকে এসে রক্ত দিয়ে গেলেন। 

মামুন আলী বলেন, ‘টাকা দিয়ে এটা হিসাব করা যাবে না। যাঁরা এসেছেন, তাঁরা গাড়ি ভাড়া পর্যন্ত নেননি। আমার ভাবির সময়মতো অস্ত্রোপচার হলো। আমাদের সঙ্গে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন অনেকে।’

‘বাঁধন’ রংপুর জোনের নীলফামারী সরকারি কলেজ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি তাঁদের ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়। তাঁদের সদস্য সংখ্যা ১৪০ জন। ফেসবুকে তাঁদের অনুসরণকারী দুই হাজারের বেশি। সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত তাঁদের কার্যালয় খোলা থাকে। হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে চাহিদাপত্র পেলে তাঁরা রক্তদাতা সংগ্রহ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

সমস্যার কথা জানতে চাইলে মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে অনেক সময় দক্ষ টেকনোলোজিস্ট না থাকায় রক্তদাতারা নিরুৎসাহিত হন। অনেক সময় তাঁরা রক্তদাতাদের রক্ত নিতে গিয়ে দু–তিনবার সুচ ফোটান। আবার অনেকে খারাপ আচরণ করেন।’

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবু আল হাজ্জাজ বলেন, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ব্লাড ব্যাংক নেই। এখন তাঁরা প্যাথলজি বিভাগের মাধ্যমে রক্তদাতাদের কাছ থেকে রক্ত নেওয়ার কাজ করছেন। পূর্ণাঙ্গ ব্লাড ব্যাংকের প্রস্তাব দেওয়া আছে। পূর্ণাঙ্গ ব্লাড ব্যাংক হলে সব সুবিধা নিশ্চিত হবে।

সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, তিনি ক্লিনিক মালিক সমিতি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্তদের রক্তদাতাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে বলবেন।