মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মোরশেদুল ইসলাম, শেখ শাহাদাত হোসেন, মো. রাব্বি হাসান, মো. মাহামুদ হাসান, কাজী আরিফুল ইসলাম ও মো. মিম হোসেন। তাঁদের মধ্যে মোরশেদুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন ও আরিফুল ইসলাম পলাতক।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, মামলার ১০ জন আসামির সবার বিরুদ্ধেই অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তবে ঘটনার সময় চারজন কিশোর ছিলেন। এ কারণে ওই কিশোরদের আট বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। এ ছাড়া ওই কিশোরদের মধ্যে একজনকে পর্নোগ্রাফি আইনে আরও তিন বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১৯ সালের ২৯ জুন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মুঠোফোনের মাধ্যমে ওই স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন মোরশেদুল ইসলাম। নগরের সাহেবের কবরখানা এলাকায় দেখা করার পর সেখান থেকে মেয়েটিকে সোনাডাঙ্গা এলাকার এক কিশোরের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বাড়িতে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন মোরশেদুল। আর অন্যরা সেটি মুঠোফোনে ভিডিও করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন অন্যরা।

ধর্ষণ শেষে আসামিরা মেয়েটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সন্ধ্যার দিকে ছেড়ে দেন। পরে মেয়েটি বাড়ি গিয়ে ঘটনাটি তার বড় বোনকে জানায়। এরপর মেয়েটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনেরা। ঘটনার পরদিন বড় বোন বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

ওই বছরের ১৩ নভেম্বর ১০ জন আসামির নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল হক। মামলায় ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী ফরিদ আহমেদ।