কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা কারাগারে
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বিএনপি নেতার করা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক নেতার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (রাজারহাট আমলি আদালত) বিচারক মো. মমতাজুল করিম এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো নেতা হাসান জিহাদী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের রাজিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ সরিষাবাড়ী এলাকায় বিএনপির নেতা ও ইউপির সাবেক সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাসান জিহাদী ও তাঁর সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় টিনের বেড়া ভাঙচুর করা হয় এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে। পরে শহিদুল ইসলাম রাজারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান জিহাদীর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, গত সপ্তাহে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এতে এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা অসুবিধায় পড়েন। এ কারণে হাসান জিহাদী আপত্তি জানালে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে নিজেদের বাড়ির আসবাব এলোমেলো করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল ওয়াদুদ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে হাসান জিহাদীসহ প্রায় ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। রোববার হাসান জিহাদী আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।