সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বছরের এক সময়ে এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু হচ্ছে। আবার তা শেষ হলে অ্যানোফিলিস মশার উপদ্রব শুরু হয়। এতে হচ্ছে ম্যালেরিয়া। মশার যন্ত্রণায় যেমন অতিষ্ঠ, তেমনি অস্বস্তিতে আছেন তিনি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেয়র সভায় বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের জন্য তিন-চার বছর ধরে খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে রাখা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন খালগুলোতে ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি। চাক্তাই খালে কেউ গেলে তিনি সিটি করপোরেশনসহ সরকারি সংস্থাগুলোকে গালাগালি করেন।

অতীতে খালগুলোতে প্রতিরোধদেয়াল দেওয়া হলেও বর্তমান সময়ের মতো মানুষ কষ্ট পায়নি উল্লেখ করে মেয়র সভায় অংশ নেওয়া সিডিএর প্রতিনিধির উদ্দেশে বলেন, সিডিএকে বলব, খালে বাঁধ থাক। কিন্তু পানি যাওয়ার পথ দিতে হবে। অতীতে বাঁধ দিয়ে প্রতিরোধদেয়ালের কাজ করলেও মানুষের বাড়ির আঙিনায় পানি ওঠেনি। কিন্তু এখন শুষ্ক মৌসুমেও বাড়ির আঙিনায় হাঁটুপানি জমে থাকে। এ প্রতিরোধদেয়াল দিতে গিয়ে সর্বনাশ করা হয়েছে। তাই না পারলে প্রতিরোধদেয়াল দেবেন না।

সভায় জানানো হয়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ হাজার ২৬৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ৪০ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৫। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় এক হাজার রোগী। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এলাকার বাসিন্দা ৪৮২ জন। মারা গেছেন ৭ জন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একেবারে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। ২ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হয়। মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করার সুপারিশ করেন তিনি।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিম আকতার চৌধুরী।
গতকালের সভায় বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মোবারক আলী, বিভাগীয় কীটতত্ত্ববিদ মো. মফিজুল হক শাহ, সিটি করপোরেশনের মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম প্রমুখ।