দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি গঠনের সাত মাসের মধ্যেই রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে তদন্ত করতে রাজশাহী আসেন কেন্দ্রীয় কমিটির গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন সম্পাদক শেখ শামীম, উপ-আইন সম্পাদক আপন দাস ও সহসম্পাদক তানভীর আবদুল্লাহ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁরা উড়োজাহাজে রাজশাহীতে আসেন।  পরদিন বিকেলে তাঁরা আবার উড়োজাহাজে করেই ঢাকায় ফেরেন। তিনজন ছিলেন রাজশাহী পর্যটন মোটেলে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা গত ২৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়েছে, ‘ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটি সব ধরনের তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, এক নম্বর সহসভাপতি, এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যে সব কর্মকাণ্ডে জড়িত, তা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ও আদর্শের সাথে চরমমাত্রায় সাংঘর্ষিক। এ অবস্থায় রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট তাঁদের দ্বারা পরিচালিত হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে বিনষ্ট হবে। সুতরাং তাঁদের স্থায়ী বহিষ্কারের জোর সুপারিশ করছি।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেওয়া ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটির তিন সদস্যেরই সই রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক তানভীর আবদুল্লাহ বুধবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা যথারীতি বহিষ্কারের সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এখন কার্যকর করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাঁরা রাজশাহীতে তদন্তে গিয়ে নিজের টাকায় সবকিছু করেছেন। অথচ আপনারা (সাংবাদিকেরা) লিখলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত, আমরা তাঁদের টাকায় থেকেছি–খেয়েছি। এই অভিযোগ সঠিক নয়, তার প্রমাণ আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন।’ তিনি আরও বলেন, দলের মধ্যে দু–একজন খারাপ থাকতে পারেন। আবার আদর্শবান ও ত্যাগী নেতাও রয়েছেন।

রাজশাহী ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ফাঁস হওয়া অডিওতে বলতে শোনা যায় ‘বহুত বগ চিটারি-বাটপারি কইরি আমি প্রেসিডেন্ট (জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি) হইসি...।  সব চিটারের দলের সরদার আমি।’ এ ছাড়া ওই অডিওতে এক নারীর সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ কথোকপথন শোনা যায়।

এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগানো কক্ষে থাকাসহ আরও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। পরে অবশ্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে এই অডিও-ভিডিও ‘সুপারি এডিট’ বলে দাবি করেন। তারা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।