আজ বেলা পৌনে একটার দিকে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, উচ্চতর তদন্তের মাধ্যমে বুলবুল হত্যায় গ্রেপ্তার প্রকৃত খুনিদের দ্রুত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর, নিহত বুলবুলের পরিবারকে অতিদ্রুত ক্ষতিপূরণ হিসেবে এককালীন ৫০ লাখ টাকা প্রদান, আগামী ১২ বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা ও বুলবুলের পরিবারের একজন সদস্যের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে।

চার দফা দাবির মধ্যে তৃতীয় দাবিটি হচ্ছে ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ও সংখ্যা বৃদ্ধি, অনিরাপদ ও অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, ক্যাম্পাসের টিলাগুলোতে নিরাপত্তাপ্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রাচীরসংলগ্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর চতুর্থ দাবিটি হচ্ছে বুলবুলের স্মৃতি রক্ষার্থে বুলবুল হত্যার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও বুলবুল চত্বর ঘোষণার পাশাপাশি ২৫ জুলাইকে বুলবুল হত্যা দিবস ঘোষণা করা।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তাঁর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ভবন-ডি-এর সামনে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় বক্তব্য দেন লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আশ্রাফুল আলম।

শিক্ষার্থী আশ্রাফুল আলম বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। আমরা  ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বৃদ্ধির কথা বলেছিলাম। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেছেন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি তাঁর একার পক্ষে সম্ভব নয়, এতে সবার সহযোগিতা দরকার। এ ছাড়া বুলবুলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি বসবেন বলেও জানিয়েছেন। দাবি অনুযায়ী, ৫০ লাখ টাকা সহায়তা প্রদানের যে বিষয়টি ছিল, তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে তিনি কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।’

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বেলা সোয়া দুইটার দিকে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বুলবুলের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা বাড়াতে অনুরোধ করেছেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, বুলবুল একজন ছাত্রলীগ কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুলবুলের পরিবারকে যে পাঁচ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে, এটা পর্যাপ্ত নয়। বুলবুলের পরিবার যাতে স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনা করে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হোক।

ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে আজ বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বুলবুলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে গাজী-কালু টিলা লাগোয়া ‘নিউজিল্যান্ড’ এলাকায় বুলবুল ছুরিকাহত হন। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রাতেই সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন। পরে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন বুলবুল। তাঁর বাড়ি নরসিংদী সদর উপজেলার নন্দীপাড়া গ্রামে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরান হলের ২১৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। বুলবুলের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সোমবার রাত থেকে দোষী ব্যক্তিদের বিচার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিতে কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন