লালমনিরহাটে ওসির অপসারণ দাবি নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান। রোববার দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়েছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর ওসির অপসারণ দাবিতে বিএনপির এক পক্ষের আন্দোলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও মিছিল হয়েছে। রোববার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করে দলের আরেক পক্ষ। এ সময় তারা ওই পক্ষের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান বলেন, নাশকতা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক। ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ওসির অপসারণ দাবিতে মাঠে নেমেছেন এবং প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দলের নাম ব্যবহার করে যারা ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে সহায়তা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপির কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এর আগে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ব্যানারে উপজেলার তুষভান্ডার বাজার এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকেরা কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণ দাবিতে তুষভান্ডার বাজারে একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।

এসব কর্মসূচির মাধ্যমে কালীগঞ্জে উপজেলা বিএনপি দুই পক্ষে বিভক্তি প্রকাশ্যে এসেছে। এক পক্ষে রয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনের এমপি রোকন উদ্দিন ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান। অপর পক্ষে রয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত ও কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম।

এ বিষয়ে জানতে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, ‘যেসব অভিযোগ এনে বিএনপির এক পক্ষ সম্প্রতি আমার অপসারণ দাবি করে কর্মসূচি পালন করেছে, সেসব সত্যি নয়। আমি নিয়ম অনুযায়ী যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের আটক করে লালমনিরহাটের আদালতে সোপর্দ করেছি। আমি নিরীহ বা নির্দোষ মানুষকে হয়রানি বা আটক করিনি।’