গত শুক্রবার মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা ১১ জন নিহত হন। আহত হন পাঁচজন। নিহত ১১ জনের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালক ছাড়া বাকি সবাই স্থানীয় আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টারের ছাত্র ও শিক্ষক। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা হলেন কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিয়াউল হক (২২), মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯), রিদুয়ান চৌধুরী (২২) ও ওয়াহিদুল আলম (২৩); শিক্ষার্থী সামিরুল ইসলাম হাসান, মোসাহাব আহমেদ (১৬), ইকবাল হোসেন, শান্ত শীল ও সাজ্জাদ হোসেন, মো. আসিফ (১৮) এবং মাইক্রোবাসের চালক গোলাম মোস্তফা (২৬)। তাঁরা সবাই খন্দকিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শুধু গোলাম মোস্তফাই বিবাহিত। তাঁর একমাত্র সন্তান রুহি আক্তার।

একপর্যায়ে রুহি ঘরের ভেতরে থাকা বাবার মোটরসাইকেলটি দেখিয়ে দেয় দাদাকে। ‘গাড়ি আছে, বাবা কই?’ দাদা যখন রুহিকে শান্ত করতে পারছেন না, তখন তার নানা আরিফ হোসেন ভেতর থেকে এগিয়ে আসেন। ওই সময় তাঁর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। আর বলতে থাকেন, ‘আমার নাতনিকে এখন কে স্কুলে নিয়ে যাবে।’

গোলাম মোস্তফার ফুফাতো ভাই নুর নবী বলেন, ছয় বছরের শিশু, সামনের দিনগুলো বাবাকে ছাড়া কীভাবে পার করবে, ভাবতেই বুকে মোচড় দিয়ে ওঠে। বাবার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।

পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে গোলাম মোস্তফাই সব দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানান তাঁর বাবা মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, সংসারের কোনো কাজে তাঁকে মাথা ঘামাতে হতো না। মোস্তাফা একাই সব সামলে নিতেন। এখন তিনি একা হয়ে পড়েছেন।

গোলাম মোস্তফার প্রতিবেশী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, সকালে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে এসে কাজে যেতেন মোস্তফা। এখন ওই মেয়ে বাবাকে ছাড়া কীভাবে থাকবে?

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন