আতিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

দেড় কোটি টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও প্রায় দেড় কোটি টাকার তথ্য গোপন করার অভিযোগে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

অভিযুক্ত নেতার নাম আতিকুর রহমান ওরফে কালু। তিনি রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ভবন ও নয়টি প্লটসহ অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে রাজশাহীর সিটিহাটের ইজারা পেয়ে আসছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে আতিকুর রহমানের সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয় দুদক। গত ১৫ জানুয়ারি তিনি দুদকে তাঁর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি নিজ নামে মোট ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৯১৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখান। কিন্তু অনুসন্ধানে গিয়ে দুদক জানতে পারে, তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৩২ টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬ হাজার ৫১৫ টাকার সম্পদের কোনো বৈধ উৎস পায়নি দুদক। অন্যদিকে আসামির আয়কর নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত পারিবারিক ব্যয় বাবদ ২ কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার ৯০১ টাকা খরচ করেছেন এবং ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮০ টাকার ঋণ শোধ করেছেন। অর্থাৎ ২ কোটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার ৫৮১ টাকা ব্যয় করেছেন। ফলে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৪ লাখ ৭৩ হাজার ১৩ টাকা। এ ক্ষেত্রে তাঁর আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৪ হাজার ৪২১ টাকা। এ দুই অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার যা কিছু আছে, সবকিছু আমি দুদকের কাছে দিয়েছি। জানামতে আমি কোনো তথ্য গোপন করিনি। এখন দেখি, তারা কী অভিযোগ করেছে। দেখলে সেই মোতাবেক আমি জবাব দেব।’ তিনি দাবি করেন, তাঁর একটি সাততলা ও একটি ছয়তলা ভবন আছে। একটি তিন কাঠার প্লট আর পুঠিয়ার বানেশ্বরে জমি আছে। তা ছাড়া কিছু নেই।