গাজীপুরে বকেয়া টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি, ভিডিও ফেসবুকে

গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় কয়েকজন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার মুলাইদ গ্রামেছবি: সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বাকিতে মালামাল না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর অতর্কিত হামলা, গুলিবর্ষণ এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মুলাইদ গ্রামের হাজি কাছম আলী ফকির সুপারমার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মুলাইদ গ্রামের হাজি কাছম আলী ফকির সুপারমার্কেটের ‘নিউ জামালপুর গ্লাস অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়াম ফেক্সিকেটর’ দোকানের মালিক ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে লেনদেন নিয়ে কেওয়া গ্রামের রানা ভান্ডারির বিরোধ তৈরি হয়। রানা এর আগেও ওই দোকান থেকে মালামাল নিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে দোকানির কিছু টাকা পাওনা ছিল। বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ।

দোকানমালিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, গত শনিবার রানা ভান্ডারি তাঁর দোকান থেকে ৭২ হাজার টাকার মালামাল কেনেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকি ৪২ হাজার টাকা গতকাল পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল বিকেলে রানা বাকি টাকা না দিয়েই আবার মালামাল নিতে চাইলে দোকানের কর্মচারী শ্যামলের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

ফয়সালের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে রাত আটটার দিকে রানা ভান্ডারি ও তাঁর ভাই মামুনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানটিতে হামলা চালান। হামলাকারী ব্যক্তিরা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। বাধা দিতে গেলে মার্কেটমালিকের ছেলে কামাল ফকির (৪০), তাঁর ভাগনে সিয়াম (২২), দোকানের ব্যবস্থাপক শাহিন (৩০), কর্মচারী শান্ত (২৫) ও শ্যামলকে (২২) মারধর করা হয়। এতে তাঁরা আহত হন।

ফয়সাল আহমেদের দাবি, হামলার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছোড়া হয়। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার পর থেকে তাঁরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানান শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাছির আহমেদ। তিনি বলেন, গুলিবর্ষণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।