খুলনায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নিহত হুমায়ুন কবিরছবি: সংগৃহীত

খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে ১৯ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় দুজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটল। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে নগরের লবণচরা এলাকার সড়কের ওপর থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে হত্যার পর সড়কে লাশ ফেলে যায়।

নিহত হুমায়ুন নগরের আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তাঁর (হুমায়ুন) দলীয় পদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন

স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের রেস্তোরাঁয় বসে ছিলেন হুমায়ুন। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, নগরের মোস্তফার মোড়ে আরাফাত নামের এক দোকানদারের কাছ থেকে কয়েক দিন আগে রেফ্রিজারেটর কিনেছিলেন হুমায়ুন। এর কিছু টাকা বকেয়া ছিল। আজ সন্ধ্যায় আরাফাত ও তাঁর ভাই বকেয়া টাকা চাইতে গেলে হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে তাঁরা ফিরে গিয়ে সহযোগীদের নিয়ে এসে হুমায়ুনকে কুপিয়ে জখম করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে নিহত ব্যক্তির অন্য কোনো পূর্ববিরোধ ছিল কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

আরও পড়ুন

এর আগে গতকাল রাত ১১টার দিকে নগরের লবণচরা এলাকায় দরগা কাশেমিয়া মসজিদ–সংলগ্ন সড়ক থেকে শহীদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, দু–তিন দিন পরপর বাড়িতে আসতেন শহীদুল। গতকাল বিকেলে বাড়িতে এসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বের হন। পরে রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে সড়কের ওপর তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।

আরও পড়ুন

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নিহত শহীদুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও ছিল। পূর্বশত্রুতা অথবা মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। কাউকে গ্রেপ্তারও করা যায়নি।

খুলনায় সম্প্রতি একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২২ অক্টোবর ভোরে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূকে। এ ছাড়া ২৯ মে নগরের সোনাডাঙ্গা থানার তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লার একটি ভাড়া বাসায় বেবি বেগম (৬০), তাঁর নাতি শামীম ব্যাপারী (১৪) ও মুস্তাকিন (৪) খুন হন।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে খুলনায় গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতসহ বিভিন্নভাবে ৭৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের মতো কারণ আছে।