নোয়াখালীতে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান, ১৭১ জন আটক, মুচলেকায় ছাড়া ১৬০
নোয়াখালীতে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৭১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সন্ধ্যা থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার নয়টি থানায় একযোগে ২৫টি পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আজ সোমবার বিকেলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ১৭১ জনের মধ্যে ১৬০ জন কিশোর। তাদের মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর ৪ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
থানাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ২৯ জন, হাতিয়া থানায় ২৯ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ২০ জন, সেনবাগ থানায় ২১ জন, চাটখিল থানায় ৮ জন, চরজব্বর থানায় ১০ জন এবং কবিরহাট থানায় ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানায় আটক ২৫ জনের মধ্যে ২২ জনকে মুচলেকা নিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ৩ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় এবং ৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
অপর দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় আটক ১৫ জনের মধ্যে ১০ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে ৩৪ ধারায় এবং ১ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘রোববার বিকেল ও সন্ধ্যা থেকে আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলাজুড়ে এই অভিযান চালানো হয়। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধপ্রবণতা রোধ এবং কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার এবং প্রতিরোধমূলক সামাজিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।