বরিশালের শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়নসহ তিন দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এতে মহাসড়কে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। ‘বরিশাল ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার থেকে ছাত্র–জনতার ব্যানারে তাঁরা এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক অবরোধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি না করার জন্য অনুরোধ করেন।
তবে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে আন্দোলনকারীরা মহাসড়কে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে সেখানে বসে পড়েন এবং দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, বিকেল চারটায় অবরোধস্থলে তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এর আগে শুক্রবার প্রায় সাত ঘণ্টা ও গতকাল শনিবার তিন ঘণ্টার বেশি সময় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঢাকার সঙ্গে বরিশাল ছাড়া বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। ছাত্র–জনতার ব্যানারে স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারসহ তিন দফা দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে তাঁরা নানা কর্মসূচি পালন করছেন।
তিন দফা দাবি হলো, শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের সব সরকারি হাসপাতালে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ দেশের সব হাসপাতালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক চিকিৎসকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ডিজিটাল অটোমেশন ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক টাস্কফোর্স গঠন; স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনকে জনগণের ভোগান্তির বিষয় শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আবার সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে জোরদার পদক্ষেপ নেওয়া।
আন্দোলনে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ লোকজন অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংস্কারের জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। তবুও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বিষয়টি কর্ণপাত করছেন না। যত দিন পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার না হবে, তত দিন পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
আন্দোলনের সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘আমরা ১৪ দিন ধরে এখানে আন্দোলন করে যাচ্ছি। অথচ ব্যর্থ স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আমাদের খোঁজ পর্যন্ত নেননি। তিনি বরিশালে আসতে পারেননি। আমরা ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে এসে আমাদের দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
এদিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে প্রচণ্ড গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। ঢাকা থেকে আসা এক যাত্রী রাহাত হোসেন বলেন, ‘বরগুনার বামনায় গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য এখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা বাসের মধ্যে আটকে আছি। প্রচণ্ড গরমে খুবই খারাপ অবস্থা। কখন অবরোধ উঠবে, কখন বাড়ি যেতে পারব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’