ভোটারদের মাঝে টাকা বিলানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘কোনো প্রমাণ থাকলে তা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনলে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা। ভোটের মাঠে আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে তৈয়ব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, প্রথমে দল আজিজুল ইমাম চৌধুরীকে সমর্থন দিয়েছিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপি থাকার বিষয়টি বেরিয়ে আসায় পর তাঁর সমর্থন বাতিল করা হয়। এরপর গোপন ভোটের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের সমর্থন তাঁর (তৈয়ব উদ্দিন চৌধুরীকে) পক্ষে যায়। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর হাইকোর্টের মাধ্যমে বৈধতা ফিরে পান আজিজুল ইমাম চৌধুরী। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে সরাসরি কাউকে সমর্থন না দিয়ে প্রার্থিতা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়।

লিখিত বক্তব্যে এই চেয়ারম্যান প্রার্থী আরও বলেন, আজিজুল ইমাম চৌধুরী ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, জেলার নেতা-কর্মীসহ দিনাজপুরবাসীর কাছে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। দল তাঁকে সমর্থন দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর সেটি তুলে নেওয়া হয়। তিনি এখন দলের প্রার্থী না বরং হাইকোর্টের প্রার্থী। এরপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত চিঠি ছাপিয়ে লিফলেট আকারে বিলি করে নিজেকে দলীয় প্রার্থী পরিচয় দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন আজিজুল ইমাম চৌধুরী, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল।

দিনাজপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ ভালো উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে তৈয়ব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেলোয়ার হোসেন ভোটারদের মাঝে কালোটাকা বিলিয়ে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ কলঙ্কিত ও কলুষিত করছেন। এটা শুধু আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়, ফৌজদারি অপরাধের শামিল। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনারকে মৌখিক অভিযোগ দিলেও তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।  

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বজলুল হক, মো. আলাউদ্দীন, আলতাফুজ্জামান মিতা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রনজিত কুমার সাহা, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মীর শরীফ উদ্দিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক কামরুল হুদা প্রমুখ।

জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম প্রামাণিক বলেন, তৈয়ব উদ্দিন চৌধুরী অপর প্রার্থী আজিজুল ইমাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ করেছিলেন। তাঁকে কারণ দর্শানো হয়েছে। তিনি জবাবও দিয়েছেন। তবে আনারস প্রতীকের প্রার্থীর বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ কেউ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে। জেলার ১৩টি উপজেলা, ৯ পৌরসভা ও ১০৩টি ইউনিয়ের মোট ১ হাজার ৪৭৯ জন ভোটার তাঁদের ভোট দেবেন।