ঈদের ১০ দিনের ছুটি শেষে গাজীপুরে কর্মচাঞ্চল্য, কারখানাগুলোয় উৎপাদন শুরু

ঈদের ছুটি শেষে গাজীপুরে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। রোববার সকালে গাজীপুরের ইকোটেক্স কারখানায়ছবি: প্রথম আলো

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মচাঞ্চল্যে ফিরেছে শিল্পনগরী গাজীপুর। গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন শেষে শ্রমজীবী মানুষেরা কর্মস্থলে ফিরে আসায় আজ রোববার সকাল থেকেই সরব হয়ে উঠেছে কারখানাগুলো। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকেরা। পুরোদমে শুরু হয়েছে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম।

শিল্প পুলিশ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরে মোট ২ হাজার ৭৫৩টি কারখানায় ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০টি পোশাক কারখানা আজ খুলেছে। এসব কারখানায় প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক কর্মরত। অধিকাংশ কারখানায় টানা ১০ দিনের ছুটি ছিল। ছুটি শেষে আজ থেকে এসব কারখানা পুরোদমে চালু হয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আজ থেকে গাজীপুরে শতভাগ কারখানা ঈদের ছুটি শেষে চালু হয়েছে। কর্মপরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

সকাল থেকেই বিভিন্ন কারখানার সামনে শ্রমিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থলে পৌঁছান। কাজের পরিবেশে ফিরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকেরা। তাঁরা জানান, স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ও ন্যায্য বেতন-ভাতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সামনের দিনগুলোয় তাঁরা আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

ঈদের ছুটি শেষে গাজীপুরে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা
ছবি: প্রথম আলো

কারখানা–সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও শ্রমবান্ধব কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও কর্মপরিবেশের বিভিন্ন দিক জোরদার করা হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষই। ঈদ–পরবর্তী এই স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

চন্দ্রা এলাকার বিষয়ে একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাহিবুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি, যাতে তাঁরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন।’