বগুড়ার মম ইনে ‘কেব্ল কার’ রাইড চালু, প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের ভিড়
বগুড়ার পাঁচ তারকা মানের ‘মম ইন ইকো পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট’–এ আজ শনিবার ‘কেব্ল কার’ রাইড চালু হয়েছে। ঈদের এই দিনে ওই রাইডে চড়তে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা।
মম ইন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে প্রথমবারের মতো তারকা হোটেল, রিসোর্ট বা বিনোদন পার্কে বিশ্বমানের কেব্ল কার রাইড অ্যাডভেঞ্চার চালু করেছে মম ইন। কেব্ল কারের একটি স্টেশন হোটেল চত্বরে, আরেকটি টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে। দূরত্ব প্রায় দেড় কিলোমিটার; উচ্চতা ১৩০–১৪০ ফুট। কেব্ল কারে ৩২টি চেম্বার আছে। প্রতিটি চেম্বারে ৪ জন বসতে পারেন। অর্থাৎ প্রতি রাইডে ১২৮ জন চড়তে পারেন। জনপ্রতি টিকিটের দাম ২০০ টাকা।
এই রাইডে আসা–যাওয়ায় সময় লাগে মোট ৩৬ মিনিট। হোটেলের অতিথি ছাড়াও যেকোনো দর্শনার্থী এই রাইডে উঠতে পারবেন।
মম ইন ইকো পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) রাকিবুল ইসলাম বলেন, দেশীয় পর্যটনশিল্পকে বিশ্বমানে রূপ দিতে এবং বিদেশি পর্যটকদের চোখে বাংলাদেশি পর্যটন সম্ভাবনাকে মেলে ধরতে পাঁচ তারকা হোটেলে অতিথি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনোদনের নানা রোমাঞ্চকর রাইড চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সবুজে ঘেরা হোটেল চত্বরের লেকে ভাসমান বোটিং, সাইক্লিং, গেমিং জোন, ট্র্যাকলেস ট্রেন, অ্যামিউজমেন্ট পার্কে রয়েছে নানা বয়সী অতিথি ও দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক ও রোমাঞ্চকর সব রাইড।
রাকিবুল ইসলাম জানান, উঁচু থেকে চারপাশের মনোরম দৃশ্য উপভোগের জন্য এখানে আছে ধীরগতির ফেরিস হুইল (যান্ত্রিক নাগরদোলা), ডিজে গানের তালে তালে কৃত্রিম ঢেউয়ের ছন্দে মেতে ওঠার ওয়েভ পুল, পানির স্রোতে ভেসে বেড়ানো প্রশান্তিদায়ক লেজি রিভার, গানের তালে তালে কৃত্রিম বৃষ্টির রেইন ড্যান্স। সুইমিং ওয়াটার রাইড ছাড়াও আছে হেলিকপ্টার রাইড। এবার চালু হয়েছে কেব্ল কার রাইড।
আজ দুপুর থেকেই মম ইনে হাজারো দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেব্ল কার রাইডে উঠেছিলেন বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার মোশতাক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ প্যানারোমাময় দৃশ্য উপভোগ করেছি। পড়ন্ত বিকেলে বিস্তৃত সবুজ প্রকৃতি, ওয়েব পুলের ঝিলিমিলি ঢেউ এবং করতোয়া নদীর নান্দনিক সৌন্দর্য বিমোহিত করেছে।’
মম ইন ইকো পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টি এম আলী হায়দার বলেন, বিশ্বমানের কেব্ল কার রাইড দেশের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এ থেকে আয় দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। উত্তরাঞ্চলের আঞ্চলিক ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কেব্ল কার সেবা শুধু একটি বিনোদনমূলক রাইড নয়; এটি অন্য রকম এক রোমাঞ্চ, আবেগ এবং একটি অনন্য উদ্যোগ, যা দর্শনার্থীদের বিমোহিত করবে।