নওগাঁয় ঘর থেকে স্ত্রী-সন্তানের লাশ উদ্ধার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্বামীর মৃত্যু

মরদেহপ্রতীকী ছবি

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বসতঘর থেকে এক নারী ও তাঁর দুই বছরের কন্যাসন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা গেছেন ওই নারীর স্বামীও। আজ শুক্রবার সকালে লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেশী ও পুলিশের ধারণা, স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি।

নিহত ব্যক্তির নাম রাজ সরকার (৩৫)। তিনি বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে। তাঁর স্ত্রী দৃষ্টি সরকার ও মেয়ে জেনি সরকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজ সরকার মাদকাসক্ত ছিলেন, মানসিক সমস্যাও ছিল।

আত্রাই থানা পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বরাতে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে মেয়েকে নিয়ে রাজ সরকার ও তাঁর স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী ও মেয়েকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন রাজ। পরে তিনি নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালান। রাতে তাঁদের ঘরে চিৎকারের শব্দ শোনা গেলেও তখন কেউ যাননি। সকালে প্রতিবেশীরা ঘরটির দরজা ভেঙে দেখতে পান, বিছানায় স্ত্রী ও সন্তানের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে; ঘরের মেঝেতে রাজ আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে রাজকে উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

রাজ সরকারের প্রতিবেশী আনন্দ কুমার বলেন, রাতে তাঁদের বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গেছিল। সকালে রাজদের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখা যায়। তখন সন্দেহ হলে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, জয়ের স্ত্রী ও সন্তানের লাশ পড়ে আছে। আর গলায় ছুরিকাঘাত নিয়ে রাজ তখনো বেঁচে আছেন। তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁরও মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম জানান, রাজ সরকার একজন মাদকাসক্ত এবং তাঁর মানসিক সমস্যাও ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাজ প্রথমে তাঁর স্ত্রী–সন্তানকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে তিনি নিজে গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।