শ্রীমঙ্গলে এসে রোহান আগারওয়াল পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য (মৌলভীবাজার–৪) মো.আবদুস শহীদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসিন মিয়াসহ শ্রীমঙ্গলের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি। এ ছাড়া শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব ও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বিদ্যালয়ে প্রচারণা চালান তিনি।

শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, রোহান আগারওয়াল সম্প্রতি স্কুলে এসেছিলেন শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করতে। তিনি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়েছেন কীভাবে প্লাস্টিকের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই তাঁরা যেন প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে এনে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যায়, এমন জিনিস ব্যবহার করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত বুঝিয়েছেন কীভাবে প্লাস্টিক পরিবেশ দূষণ করে এবং মানুষের ক্ষতি করে। রোহানের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

কীভাবে পরিবেশ রক্ষার কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন—জানতে চাইলে রোহান আগারওয়াল বলেন, ‘আমার দুটি উদ্দেশ্য আছে। প্রথমত, মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া। পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পেছনে প্লাস্টিকের পণ্যের যে ক্ষতিকর দিক রয়েছে তা মানুষকে বোঝানো। দ্বিতীয়ত, পরিবারের ভাঙন রোধ করে কীভাবে ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে একসঙ্গে থাকা যায় সেটা বোঝাতে চাই। ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট ১৮ বছর বয়সে আমি এই কাজ শুরু করি। কেউ আমাকে এই কাজের জন্য আর্থিক সহযোগিতা দেন না। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আমি ঘুরেছি। সবাই আমাকে সহযোগিতা করেছেন। এখন আমি বাংলাদেশে ঘুরছি।’

রোহান আগারওয়াল বিভিন্ন জায়গায় পদযাত্রার অভিজ্ঞতা বিষয়ে বলেন, যখন তিনি ভারতের বিভিন্ন জায়গায় গেছেন, তখন অনেক জায়গার ভাষা তাঁর জানা ছিল না। বাংলাদেশে যখন আসেন, তখনও বাংলা ভাষায় কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল। তিনি হিন্দি, ইংরেজি ও মারাঠি এই তিন ভাষায় পারদর্শী। গুগল ট্রান্সলেটর, বিভিন্ন অ্যাপস ও দোভাষী মানুষের সহযোগিতায় এখন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। এটা তাঁর কাছে অনেক ভালো লাগার বিষয়। বাংলাদেশে আসার পর সবাই তাঁকে সহযোগিতা করছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রোহান আগারওয়াল বলেন, বাংলাদেশে তিনি ৪৫ দিন থাকবেন। এরপর মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, চীন, হংকং, ম্যাকাও, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর। এই যাত্রায় তিনি ৫০ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করতে চান।