ফেনীতে বড় ভাইকে ফাঁসাতে ধর্ষণের মামলা, ছোট ভাই ও স্ত্রীর কারাদণ্ড
ভাশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছিলেন এক নারী। নিজের গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুটিও ভাশুরের বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তবে ডিএনএ টেস্টে বেরিয়ে এল প্রকৃত সত্য। প্রায় আড়াই বছর পর এ মামলা থেকে অব্যাহতি পান ভাশুর। এরপর ভাশুরের করা মামলায় ওই নারী ও তাঁর স্বামীকে সাড়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ২৩ মে ওই গৃহবধূ ভাশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করেন। তখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর গর্ভের সন্তান ভাশুরের, তবে মামলায় ধর্ষণের যে তারিখ দেখানো হয়েছিল, সেদিন ভাশুর ফেনীতে ছিলেন না। এ প্রমাণ দেখিয়ে তিনি আদালত থেকে জামিন পান। এরপর আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করে।
২০২২ সালে ১ ডিসেম্বর আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। ডিএনএ টেস্টের ফলাফল দেখিয়ে এ প্রতিবেদনে বলা হয় গৃহবধূর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুটি ভাশুরের নয়। শিশুটির বাবা গৃহবধূর স্বামী। পরে আদালত সিআইডিকে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একই প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। এরপর গত বছর ২৯ অক্টোবর এ মামলা থেকে অব্যাহতি পান ভাশুর। পরে একই বছর ২৭ নভেম্বর তিনি নিজে বাদী হয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গত বছর ৪ মে এ মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দুজন ও আসামিপক্ষে পাঁচজন সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত ১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। এরপর আজ রায় দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহাব উদ্দিন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়।’
জানতে চাইলে মামলার বাদী বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১৬ বছর সৌদি আরব থাকার পর বাবার জায়গায় এসে ঘর করি। এ ঘর দখল নিতে আমার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী ষড়যন্ত্র করেছিল। তারা আমার বিরুদ্ধে পাঁচটি মিথ্যা মামলা করেছে, সব কটি থেকে আমি অব্যাহতি পেয়েছি।’