বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ-গজারিয়া নৌপথে ফেরি চালু হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার সঙ্গে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার কমবে। পদ্মা সেতু হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মোংলা ও পায়রা বন্দরে সহজে যাতায়াত করা যাবে। দেড় কিলোমিটার দূরত্বের এ নৌপথে ফেরি পারাপারে সময় লাগবে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। প্রতিটি ফেরির ধারণক্ষমতা ১০০ মেট্রিক টন।

মৃণাল কান্তি দাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার বছর আগে এই নৌপথে ফেরি দিয়েছিলেন। কয়েক মাস চলার পর ফেরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গজারিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ফেরি দিয়েছেন। এতে এ অঞ্চলের কাজে আবার গতি ফিরে আসবে। জেলার সঙ্গে সহজে গজারিয়া উপজেলাবাসী যাতায়াত করতে পারবে। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা আরও সহজ হবে।

নতুন করে ফেরি চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দুই পারের যাত্রীরা। স্থানীয় কয়েকজন যাত্রী বলেন, আবার ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় সবাই খুব আনন্দিত। দুই পারের বাসিন্দাদের যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আর যেন ফেরি সার্ভিস বন্ধ না হয়। এতে যদি সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়, সেটিও দেওয়ার অনুরোধ জানান স্থানীয় লোকজন।

সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী তানজুমা আক্তার ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয় মুন্সিগঞ্জ অংশের চরকিশোরগঞ্জ ফেরিঘাটে। তানজুমা বলেন, তাঁর বাড়ি গজারিয়া উপজেলা ইসমানির চর। প্রতিদিন ট্রলারে নৌপথ পাড়ি দিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। ট্রলারের জন্য দুই পাড়ে প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। ঝড়-বৃষ্টিতে ঝুঁকি নিয়ে মেঘনা পাড়ি দিয়ে মুন্সিগঞ্জ শহরে আসতে হতো। তবে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু হওয়ায় খুব সুবিধা হয়েছে।

গজারিয়ার ইমামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার বলেন, ‘আমরা চাই ফেরি সার্ভিস সচল থাকুক। যত দিন পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ না হয়, তত দিন পর্যন্ত এখানে ফেরি সার্ভিস নিয়মিত রাখা হোক।’

বিআইডব্লিটিএর সহকারী প্রকৌশলী মো. মহসিন মিয়া (নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল) প্রথম আলোকে বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ফেরি সচল রাখতে হলে এ নৌপথে যানবাহনের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, গজারিয়ার মানুষের সার্বিক উন্নতির জন্য আবার ফেরি চালু করা হয়েছে। বহরে দুটি ফেরি আছে। আরও একটি আসছে। তিনটি ফেরি দিয়ে যাতায়াত সচল রাখা হবে। পরে প্রয়োজন হলে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে।