খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সকাল সাতটায় বোয়ালমারী থেকে বাসটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। সকাল আটটার দিকে ভাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় পৌঁছালে বাসটি ফরিদপুর বাসমালিক গ্রুপের বাধার মুখে পড়ে। পরে মাঝপথে বাসটি যাত্রীদের নামিয়ে আবারও বোয়ালমারীর পথে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বোয়ালমারী থেকে আসা বিআরটিসি বাসের যাত্রী ইমরান ফরহাদ (৩২) বলেন, ভাঙ্গা বাস টার্মিনালে আসার পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বাসের চালকের কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নেন। তাঁরা বাসের চালক ও সহকারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাসের যাত্রীদের সঙ্গেও তাঁরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

ওই বাসের বাসের আরেক যাত্রী আশিকুর রহমান (৩০) বলেন, বোয়ালমারী থেকে ভাঙ্গা আসার পর যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় এই বাসের যাত্রীদের অপমান করা হয়। বাসের ৪২ আসনেই যাত্রী ছিল।

কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই বোয়ালমারী থেকে বিআরটিসির বাসটি চলাচল শুরু করেছে। এ কারণে ভাঙ্গা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে ওই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে
আনিসুর রহমান, ফরিদপুর জেলা বাসমালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক

ওই বাসের চালকের সহকারী তারিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ফরিদপুর বাসমালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় এক থেকে দেড় শ লোক মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁদের বাসটি থামিয়ে দেন। এরপর তাঁরা চড়াও হয়ে বাসের চালককে মারতে উদ্যত হয়। এ সময় চালকের কাছ থেকে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ অবস্থায় বাধা দিতে গেলে তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

বিআরটিসির বাসটির চালক রাকিবুল হাসান বলেন, ‘মালিক সমিতির (বাসমালিক গ্রুপ) লোকজন টেনেহেঁচড়ে আমাদের নামিয়ে মারধর করে। এ লাইনে বাস চালালে হাত–পা কেটে দেওয়ার হুমকি দেয়।’

এদিকে বাস থামিয়ে দেওয়া খবর বোয়ালমারীতে ছড়িয়ে পড়লে সেখানকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সকাল ১০টার দিকে রাজধানী ডিলাক্স নামে একটি বাস আটকে দেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর জেলা বাসমালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বলেন, কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই বোয়ালমারী থেকে বিআরটিসির বাসটি চলাচল শুরু করেছে। এ কারণে ভাঙ্গা থেকে যাত্রীদের নামিয়ে ওই বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনও জানে। বিআরটিএর পক্ষ থেকে দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলায় পদ্মা সেতু হয়ে বিআরটিসির বাস চলাচলের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো উপজেলাভিত্তিক বাস চলাচলের অনুমতি নেই। আর ফরিদপুরে বিআরটিসির কোনো ডিপো নেই। কুমিল্লা ডিপোর বাস এনে ওই ডিপোর ম্যানেজারের নামে লিজ নিয়ে বাস চালানো হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিআরটিসির ব্যবস্থাপক (অপারেশন–কুমিল্লা ডিপো) মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলা বাসমালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে বিআরটিসির বাস বন্ধ করার কোনো এখতিয়ার নেই। পরিবহনসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌচ্ছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সেই হিসেবে ওই রুটে বিআরটিসির বাস চলাচল বন্ধ করা ঠিক হয়নি।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ‘বাস চলাচলের বিষয়ে ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি, এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ ছাড়া বিআরটিসির পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন