হাফিজুল ইসলামের ফুলের দোকানে বসে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, আগের মতো ফুলের বেচাবিক্রি নেই। অনুষ্ঠান কমে গেছে। বিয়েশাদির অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে সাজানো হলেও চাহিদা কমে গেছে। তবে বিভিন্ন দিবসে ফুল বিক্রি আগের মতোই আছে। আর উপহার দেওয়ার জন্য তরুণ–তরুণীরা এখনো ফুল বেছে নেন।

ফুল কিনতে আসা দুই তরুণীর মধ্যে একজন নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, ‘ফুলের দাম বেড়ে গেছে। আগে একটি গোলাপ পাঁচ টাকায় কিনতাম। এখন সেটি ১০ টাকা হয়েছে। প্রতিটি রজনীগন্ধার স্টিক ১০ টাকা হয়েছে। এরপরও একটি অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে বরণপর্বের জন্য ৫০টি গোলাপ ফুল কিনতে এসেছি।’

হাফিজুল বলেন, বাজারে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সংসার চালানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অসুস্থ মা-বাবাকে দেখতে হচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয়ও লাগছে। এই মুহূর্তে নতুন ব্যবসা করার পুঁজি তাঁর নেই। ফুলের ব্যবসা করতে এসে অনেক মানুষের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তরুণ-তরুণীরা ‘মামা’ বলে যখন ডাক দেয়, তখন তাঁর মনটা ভরে যায়। অনেকে বিয়েশাদির পরও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসে, ফুল কেনে। তখন অনেক আনন্দ হয়। এমন সম্পর্ক টাকা দিয়ে কেনা যায় না, আর এই আনন্দ অপার্থিব!