ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত সাবেক যুবদল নেতা মনির, চিকিৎসাসহায়তা প্রয়োজন

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী মনির হোসেন মাঝি। সম্প্রতি শরীয়তপুর সদর উপজেলার কীর্তিনাশা নদীর তীরের হাজরাসার গ্রামেছবি: প্রথম আলো

ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রায় শয্যাশায়ী শরীয়তপুর সদর উপজেলার মনির হোসেন মাঝি (৫৪)। পরিবারের ভাষ্য, মনিরের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করতে হয়েছে। এখন টাকার অভাবে নিয়মিত ওষুধও কিনতে পারছেন না। তাঁর চিকিৎসায় সহায়তা চান তাঁরা।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার কীর্তিনাশা নদীর তীরের হাজরাসার গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের লোকজনের ভাষ্য, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সচ্ছলভাবেই জীবন কাটছিল মনিরের। ২০২৩ সালের দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এর মধ্যে ওই বছরই তাঁর স্ত্রী মারা যান। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তিনি ভেঙে পড়েন। বিভিন্ন পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর ২০২৪ সালের জুনে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। এর পর থেকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এ পর্যন্ত ধারদেনা করে চিকিৎসায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

মনির হোসেন ১৯৯০–এর দশকে কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। সর্বশেষ তিনি শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
মনিরের বড় ছেলে তাজমুল মাঝি স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী এবং ছোট ছেলে নাজমুল নবম শ্রেণিতে পড়ে। তাঁদের ভাষ্য, বাবার চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন প্রতি মাসে প্রায় ৯৫ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। কিন্তু টাকার অভাবে নিয়মিত ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

মনিরের চিকিৎসার তদারকি করা চিকিৎসক সাইদুল করিম বলেন, ঢাকার একটি হাসপাতালে মনিরের চিকিৎসা চলছে। গ্রামে থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে নিয়মিত ফলোআপ করা হচ্ছে।

এমন অসুস্থতায় সন্তানদের জন্য কিছু না করতে পারার আফসোস জানিয়ে মনির হোসেন বলেন, ‘চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। সন্তানদের জন্য কিছু করতে পারলাম না—এটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট। চিকিৎসার খরচের কারণে তাঁদের পড়াশোনাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি সালাম শাহ বলেন, মনিরের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি বিপাকে পড়েছে। তিনি দলের সামর্থ্যবান নেতাদের তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।