অভিযোগের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, তাতে এসব আশঙ্কা সত্য হবে না। নির্বাচনে অনিয়ম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে ভোট গ্রহণ চলাকালে কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক আবদুর রশিদ মৃধা। তিনি বলেন, পুরো জেলায় লোডশেডিং চলছে। তবে নির্বাচন চলাকালে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে। প্রয়োজনে অন্য এলাকায় লোডশেডিং দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বজলুল হক খান উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে সরকারদলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী গেলাম মহীউদ্দীন তাঁকে পরাজিত করতে লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছেন এবং বিভিন্ন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যেসব অপচেষ্টা চালিয়েছেন, সেসবের বিবরণ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। সম্প্রতি ‘বিশ্বস্ত’ সূত্রে তিনি জানতে পারেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দলীয় ‘প্রভাবশালী’ নেতাদের ভোট কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট রেখে তাঁদের মাধ্যমে ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মানিকগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে নির্বাচন চলাকালে স্বল্প সময়ের জন্য জেলার সব ভোটকেন্দ্রের বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এতে ইন্টারনেট সংযোগ ও সিসি ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাবে। যেহেতু ভোটারসংখ্যা খুব কম, তাই অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ না থাকলেও ভোটকেন্দ্রগুলো নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এ সময়ের মধ্যে সরকারদলীয় প্রার্থী খুব সহজে কারচুপি করতে পারবেন।

স্বতন্ত্রপ্রার্থী কে এম বজলুল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি কোনো দলের প্রার্থী নই, আমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক। আমি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন চাই। এ জন্য ভোট কারচুপির আশঙ্কা থেকে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ নির্বাচনে জেলার সাতটি উপজেলা পরিষদকে সাতটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের দুই প্রার্থী ছাড়াও তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৪ জন এবং সাতটি সাধারণ ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে ১৯ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ৮৮৯ জন।