পটুয়াখালী-৩ : নুরুল হকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর

দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলার বাজারে ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল সোমবারছবি: প্রথম আলো

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে জোটের প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের (নুর) ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলার বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নুরুল হক নুরের সমর্থক এবং চরবোরহান ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মহিবুল্লাহ হাওলাদার বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গণ অধিকার পরিষদ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা স্থানীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভায় অংশ নেন। এ সময় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থক ও চরবোরহান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল গাজী, সাবেক ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলাম জুয়েল, সদস্যসচিব আসাদুল জোমাদ্দারসহ ৫০ থেকে ৭০ জন ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিতে দিতে দলবদ্ধভাবে তাঁদের কার্যালয়ে প্রবেশ করে চেয়ার ছোড়াছুড়িসহ হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তাঁদের হাতে লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র ছিল।

মহিবুল্লাহ হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও হামলা অব্যাহত থাকে। এতে দশমিনা উপজেলা ছাত্র অধিকারের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ, চরবোরহান ইউনিয়নের যুব অধিকারির যুগ্ম সদস্যসচিব মো. মাসুদ এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সঙ্গে জড়িত মো. মুছাসহ সাত থেকে আটজন আহত হন। কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসান মামুনের সমর্থক ও চরবোরহান ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা আসাদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় হাসান মামুনের পক্ষে একটি মিছিল বের করে ট্রাক প্রতীকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় গণ অধিকারের লোকজন তাঁদের মিছিলে ঢুকে হাতাহাতি ও মারধর শুরু করেন। এতে তাঁদের তিনজন আহত হয়েছেন। ভিডিওতে ট্রাক প্রতীকের কার্যালয়ে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

আরও পড়ুন

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু শাহাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, সোমবার রাতে চরবোরহান ইউনিয়নের একটি বাজারে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।