এবার কক্সবাজার সৈকতে ভেসে এল মৃত ডলফিন
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এবার ভেসে এসেছে বড় আকৃতির একটি মৃত ডলফিন। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে জোয়ারের পানিতে ডলফিনটি ভেসে আসে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ডলফিনটি বালুচরে পড়ে ছিল।
সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সি-সেফ লাইফ গার্ডের কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ছয় ফুট লম্বা অর্ধগলিত মৃত ডলফিনটি জোয়ারের পানিতে সুগন্ধা সৈকতে ভেসে আসে। তখন সৈকতে তেমন পর্যটক ছিল না। ডলফিনের মুখের অংশ কিছুটা ঠিক থাকলেও পেট থেকে লেজের দিকের অংশ পচে গেছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সিফাত সাইফুল্লাহ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে কয়েক দিন আগে ডলফিনটি গভীর সাগরে বিচরণের সময় বড় কোনো জাহাজ কিংবা মাছ ধরার ট্রলিং জাহাজের প্রপেলারে ধাক্কা খেয়ে মারা গেছে। এরপর জোয়ারের পানিতে ভেসে আসে। এর আগে ছোট আকৃতির কয়েকটি ডলফিন সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভেসেছিল। আর তিন মাস ধরে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত মা কাছিম। সাগরে পুঁতে রাখা বিভিন্ন মাছ ধরার জালে আটকা পড়েই বেশির ভাগ প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে।
ছয় ফুট লম্বা মৃত ডলফিনটির ওজন ৩-৪ মণ হতে পারে বলে জানান কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা। তিনি বলেন, এটি ইরাবতী জাতের ডলফিন। জাহাজের ধাক্কা বা প্রপেলারের আঘাত পেয়ে ডলফিনটির মৃত্যু হতে পারে। বিকৃত ডলফিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দ্রুত মাটিতে পুঁতে না ফেললে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের অস্বস্তি ও দুর্ভোগ বাড়তে পারে। দীপক শর্মা বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত বন, পরিবেশ ও মৎস্য বিভাগের কেউ ঘটনাস্থলে যাননি। যোগাযোগ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ছয় দিন আগে কক্সবাজারের সাগরদ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া সৈকতে ভেসে আসে একটি মৃত তিমি মাছ। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তিমি মাছটি বালুচরে পুঁতে ফেলা হলেও গত বুধবার বিকেলে জোয়ারের ধাক্কায় বালু সরে গেলে মরা তিমিটির অংশ বিশেষ পুনরায় ভেসে ( দৃশ্যমান) উঠে। পচে যাওয়া তিমি থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তাতে আশপাশের ঘরবাড়ি এবং সৈকত ভ্রমণে যাওয়া লোকজনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।