হাওরে উচ্চ শব্দে গানবাজনা: ছয় নৌকার মালিককে জরিমানা, সাউন্ড বক্স জব্দ

হাওরে উচ্চ শব্দে মাইকে গানবাজনা ও হইহুল্লোড় করায় পর্যটকবাহী ছয়টি নৌকার মালিককে জরিমানা করেছে প্রশাসন। গতকাল রোববারছবি: প্রথম আলো

নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও হাওরে উচ্চ শব্দে মাইকে গানবাজনা ও হইহুল্লোড় করায় পর্যটকবাহী ছয়টি নৌকার মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৪টি সাউন্ড বক্স জব্দ এবং ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে হাওরে অভিযান চালিয়ে এ ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, হাওরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকেরা আসতে শুরু করেছেন। বিলাসবহুল হাউসবোটের পাশাপাশি স্থানীয় নৌকায় করেও দল বেঁধে আসছেন তাঁরা। তবে হাওরে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের যেসব নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলো অনেকেই মানছেন না। এসব নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ শব্দে মাইকে গানবাজনা না করা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা।

গত শনিবার হাওরে একদল তরুণ নৌকায় করে ঘুরতে যান। ফেরার পথে নৌকার ছাদে তাঁরা উচ্চ শব্দে মাইকে বাজানো গানের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ করছিলেন। এ সময় তামিম নামের এক কিশোর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন রোববার বিকেলে পানিতে তাঁর লাশ ভেসে ওঠে।

গতকাল রোববার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিকের নেতৃত্বে হাওরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছয়টি নৌকায় থাকা সাউন্ড বক্স জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জরিমানা করা হয়।

ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘আমরা হাওরে পর্যটকদের আসতে উৎসাহিত করি। তাঁদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছি। তবে তাঁদের অবশ্যই হাওরের প্রকৃতি-পরিবেশের বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতে কোনোভাবে অসুবিধা না হয়, সেটিও মাথায় রাখতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশনা না মানলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মানতে হবে ১২ নির্দেশনা

হাওরে পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে গত বছরের ২১ জুন ১২টি নির্দেশনা জারি করে জেলা প্রশাসন। নির্দেশনাগুলো হলো—হাওরে পর্যটকদের জন্য ব্যবহৃত নৌযানের প্রশাসন নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার; পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য লাইফজ্যাকেট ব্যবহার; স্থানীয় গাইড ও পরিষেবা গ্রহণ; প্লাস্টিকপণ্য বর্জন; দূর থেকে পাখি ও প্রাণী পর্যক্ষেণ করা; ক্যাম্পফায়ার বা আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকা; হাওরে উচ্চ শব্দে গানবাজনা না করা বা শোনা; হাওরের পানিতে অজৈব বা প্লাস্টিক–জাতীয় পণ্য ও বর্জ্য না ফেলা; মাছ ধরা, শিকার বা পাখির ডিম সংগ্রহ না করা ও পাখিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটানো; ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করা; গাছ কাটা, গাছের ডাল ভাঙা বা বনজ সম্পদ সংগ্রহ না করা; হাওরে সংরক্ষিত (কোর জোন) অংশে প্রবেশ না করা; মনুষ্যসৃষ্ট বর্জ্য হাওরে না ফেলা।

এ প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘কক্সবাজারের পর এখন পর্যটক বেশি আসেন টাঙ্গুয়ার হাওরে। এটি আমাদের এলাকার জন্য ভালো। আমরা পর্যটনের বিকাশে সব রকম সহযোগিতা করব। তবে মনে রাখতে হবে, টাঙ্গুয়ার হাওর দেশের সম্পদ। তাই হাওরে এমন কোনো কিছু করা যাবে না, যাতে প্রকৃতি, পরিবেশ ও হাওরের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়। এটি আমরা হতে দেব না। এ জন্য পর্যটকদের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি প্রতিটি হাউসবোট ও নৌকার মালিক ও কর্মীদের আরও সচেতন হতে হবে।’