জেলা প্রশাসকের দেওয়া ১০ সতর্কবার্তার মধ্যে রয়েছে—সাঁতার না জেনে ও পানির গভীরতা সম্পর্কে অবগত না হয়ে যত্রতত্র পানিতে না নামা; চলন্ত নৌযানের কিনারায় বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করা; যাত্রাপথে নিরাপত্তার স্বার্থে লাইফ জ্যাকেট বা বয়া ব্যবহার নিশ্চিত করা; বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তারের পাশ দিয়ে নৌকা গেলে সতর্কতা অবলম্বন করা; সন্ধ্যার পর ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে নৌকায় ভ্রমণ পরিহার করা; নৌকায় উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র না বাজানো; কোনো অচেনা স্থানে ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন করা, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন, ভ্রমণ বা খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা; হাওরের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার্থে ময়লা-আবর্জনা পানিতে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা; ২০ মিটারের কম যাত্রীবাহী নৌযানে সর্বোচ্চ ২০ জন ও ৪০ হর্স পাওয়ারের নিচে যাত্রীবাহী স্পিডবোটে সর্বোচ্চ ১০ জনের বেশি যাত্রী ভ্রমণ না করা এবং হাওরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা।

চলতি বর্ষাকালে গত প্রায় আড়াই মাসে কিশোরগঞ্জের হাওরে দুর্ঘটনায় পানিতে ডুবে পর্যটকসহ অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দুই বছরে পানিতে তলিয়ে আরও ২২ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে কিছুদিন আগে প্রথম আলোয় বিশেষ প্রতিবেদন ছাপা হয়।

জেলা প্রশাসক শামীম আলম বলেন, এ বছর বর্ষায় হাওরে ভ্রমণে এসে পানিতে ডুবে পর্যটক মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বেশ উদ্বেগ–উৎকণ্ঠায় আছেন। এ বিষয়ে পর্যটকদের সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড বা বিলবোর্ড লাগানোর কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রলার–স্পিডবোটেও সতর্কতামূলক বার্তাগুলো থাকবে। সার্বক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রচারণার গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে হাওরে।

পর্যটকদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, হাওরে বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তবে পর্যটকদের বিভিন্নভাবে সতর্কতামূলক বার্তা দেওয়া হলেও নিজেদের অসচেতনতার কারণে নিজেদের জীবনকে হুমকিতে ফেলছেন। প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারজুড়ে হাওর। প্রশাসনের পক্ষে সব জায়গা পাহারা দেওয়া সম্ভব না। তবে বিষয়টি সব সময় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুরোধে তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন