গবেষণায় যা পাওয়া গেল

গবেষণায় রাজশাহীর পবা উপজেলার কাজীপাড়া, চুয়াডাঙ্গার দুধপাতিলা, ঝঁজরি ও কেষ্টপুর, ভেড়ামারার খেমিরাদিয়া, যশোরের মাড়োয়া ও নওগাঁর চৌকনী গ্রামের বাসিন্দাদের চুল, নখ, প্রস্রাব ও নলকূপের পানির নমুনা ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে চৌকনী গ্রামে আর্সেনিকের প্রাদুর্ভাব পাওয়া যায়নি।

ডায়াবেটিস–সংক্রান্ত গবেষণায় ২০১৯ সালে ৬৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩৪ জন ছিলেন আর্সেনিকের মাত্রা কম এমন এলাকার। আর আর্সেনিকের মাত্রা বেশি এমন এলাকার ছিলেন ৫০৭ জন। ফলাফলে দেখা যায়, আর্সেনিকের মাত্রা কম ওই এলাকায় ডায়াবেটিক রোগীর হার ২ দশমিক ২ শতাংশ। আর যে এলাকায় আর্সেনিকের মাত্রা বেশি, সেখানে একই ধরনের রোগীর হার ১২ দশমিক ৪।

হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিসংক্রান্ত গবেষণায় ২০২১ সালে ৫৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের মধ্যে আর্সেনিকের মাত্রা কম এমন এলাকার ছিলেন ১৪৪ জন। আর্সেনিকের মাত্রা বেশি এমন এলাকার ৪২৫ জন ছিলেন। ফলাফলে দেখা যায়, আর্সেনিকের মাত্রা কম এমন এলাকায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্তের হার ১৪ দশমিক ৬। আর আর্সেনিকের মাত্রা বেশি এমন এলাকায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্তের হার ৩১ দশমিক ৮।

উচ্চ রক্তচাপসংক্রান্ত গবেষণায় ২০১৪ সালে ৪৮৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তাঁদের ১৬১ জন ছিলেন আর্সেনিকের মাত্রা কম এমন এলাকার। আর আর্সেনিকের মাত্রা বেশি এমন এলাকার ছিলেন ৩২২ জন। ফলাফলে দেখা যায়, আর্সেনিকের মাত্রা কম এলাকায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীর হার ৩ দশমিক ৫। আর আর্সেনিকের মাত্রা বেশি এমন এলাকায় একই ধরনের রোগীর হার ১৪ দশমিক ৫।

অ্যাজমা–সংক্রান্ত গবেষণার নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২০২০ সালে। এই গবেষণায় ৮৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এতে আর্সেনিকের মাত্রা কম এমন এলাকার ছিলেন ১৮৯ জন। আর আর্সেনিকের মাত্রা বেশি এমন এলাকার ছিলেন ৬৫৩ জন। গবেষণায় উঠে আসে, আর্সেনিকের মাত্রা কম এমন এলাকায় অ্যাজমা রোগীর হার ১ দশমিক ৬। আর আর্সেনিকের মাত্রা বেশি এমন এলাকায় একই ধরনের রোগীর হার ১০ দশমিক ৩।

অধ্যাপক খালেদ বলেন, তাঁদের এই গবেষণা ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে প্রথম ইঙ্গিত করে যে আর্সেনিক বিষক্রিয়ায় মানুষের মাংসপেশি কমে যায়। আর ওই জায়গা দখল করে নেয় চর্বি। এতে পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে অত্যাধুনিক যন্ত্র

গবেষণায় মানবদেহে মাংসপেশি ও চর্বির পরিমাণ এবং শরীরের অংশবিশেষে মাংসপেশির শক্তি ও চর্বির পরিমাণ চিহ্নিত ও নির্ণয়ের কাজে জাপান থেকে দুটি যন্ত্র আনা হয়। মাঠপর্যায়ে বিশেষ করে আর্সেনিক সংক্রমণের ঝুঁকি আছে এমন এলাকায় যন্ত্র দুটি ব্যবহার করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারেও যন্ত্র দুটি ব্যবহার করা হচ্ছে। জাপানের প্রসিদ্ধ গবেষণা সংস্থা জাপান সোসাইটি ফর প্রমোশন অব সায়েন্স (জেএসপিএস) এই গবেষণায় অর্থায়ন করছে।

অধ্যাপক খালেদ বলেন, আর্সেনিক বিষক্রিয়ার মাংসপেশির ওপর প্রভাব নিয়ে ইঁদুরের ওপর গবেষণা করেছেন অধ্যাপক বারচোয়েস্কি। তাঁদের গবেষণার ফলাফল তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর তিনি যৌথ গবেষণায় আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং অংশগ্রহণের সম্মতি প্রদান করেন। পরবর্তী সময়ে অধ্যাপক খালেদকে যৌথ গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট ফেলোশিপের মাধ্যমে নিজ ল্যাবে আমন্ত্রণ জানান অধ্যাপক বারচোয়েস্কি। সেখানে ছয় মাস গবেষণা করেন তিনি। ইতিমধ্যে অধ্যাপক হিমেনো জাপানিজ সোসাইটি ফর প্রমোশন অব সায়েন্স থেকে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে ত্রিদেশীয় গবেষণার জন্য অনুদান লাভ করেন।