গভীর সাগরে ভাসছিল নিখোঁজ কলেজশিক্ষার্থী মারুফের লাশ

আবদুল্লাহ আল মারুফ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের পশ্চিমে গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজ কলেজশিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মারুফের (২০) লাশ উদ্ধার করেছেন বেসরকারি সি-সেফ লাইফগার্ড ও জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা।

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিখোঁজের প্রায় ৪৬ ঘণ্টা পর সাগরের অন্তত পাঁচ কিলোমিটার গভীর থেকে লাশটি তীরে আনা হয়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

টুরিস্ট পুলিশ জানায়, গত সোমবার বেলা দুইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে গোসলে নেমে নিখোঁজ হন মারুফ। ঢেউয়ের তোড়ে তিন বন্ধু ছিটকে পড়লেও একজন সাঁতার কেটে তীরে আসেন এবং অন্যজনকে সাগর থেকে উদ্ধার করেন লাইফগার্ড কর্মীরা। কিন্তু স্রোতে ভেসে যাওয়া মারুফের সন্ধান মিলছিল না। আজ গভীর সাগর থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মৃত মারুফ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। উদ্ধার হওয়া অন্য দুজন একই কলেজে পড়েন।

আরও পড়ুন

সৈকতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিচ কর্মীদের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, দুই দিন সাগরে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও মারুফের সন্ধান মিলছিল না। ধারণা করা হয়েছিল বালুচরের কোনো গুপ্তখালে তাঁর লাশ আটকা পড়েছে। স্রোত বেশি থাকায় লাশ গভীর সাগরের দিকেও যেতে পারে সেই ভাবনা থেকে আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ২০ থেকে ২৫টি ‘জেডস্কি’ গভীর সাগরে যান লাইফগার্ড ও বিচ কর্মীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টের পশ্চিমে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে মারুফের লাশ ভাসতে দেখা যায়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, স্রোতে মারুফ গভীর সাগরে ভেসে যায়। দুই দিন লাইফগার্ড ও বিচ কর্মীরা একাধিক জলযান নিয়ে কলাতলী থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ ছাড়া সোনাদিয়া, ইনানী, হিমছড়ি, দরিয়ানগর সৈকতেও সন্ধান করা হয়। কিন্তু কোথাও মারুফের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ দুপুরে গভীর সাগরে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মারুফের খোঁজে গাজীপুর থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার আসেন বড় ভাই আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, চাচা মোস্তফা কামালসহ স্বজনেরা। এরপর থেকে কারও চোখে ঘুম নেই। সবাই মারুফের সন্ধানে সৈকতে ছোটাছুটি করছিলেন। দুপুরে গভীর সাগরে মারুফের লাশ পাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। এদিকে মারুফের নিখোঁজ হওয়ার খবরে তাঁর বাবা-মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন মারুফের স্বজনেরা।

কয়েকজন বিচ ও লাইফগার্ড কর্মী জানান, বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় গোসলে নামতে নিষেধ করে সৈকতে একাধিক লাল নিশানা ওড়ানো হয়েছে। এরপরও অনেকে গোসলে নেমে বিপদে পড়ছেন। সোমবার দুপুরে ভাটার সময় গাজীপুরের তিন বন্ধু কলাতলী পয়েন্টে গোসলে নামেন। গলাসমান পানিতে তাঁরা ঢেউয়ের সঙ্গে খেলছিলেন। মুহূর্তে ঢেউয়ের তোড়ে মারুফ ও শাওন গভীর সাগরে ভেসে যান। পরে শাওনকে উদ্ধার করা হয়।