বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে বাধা প্রদানের অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির প্রতিটি সমাবেশের দুই দিন আগে তারা পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। অত্যাচার করেছে, আক্রমণ করেছে। খুলনায় ট্রলার উল্টে দিয়ে নেতা–কর্মীরা যখন সাঁতার কেটেছে, তখনো মেরেছে। কিন্তু সমাবেশ বন্ধ করতে পেরেছে কি? রংপুরকে এত দিন জাতীয় পার্টির দুর্গ বলা হতো, সমাবেশে প্রমাণ হয়েছে, বিএনপি ছাড়া সেখানে কোনো দল নেই। সেখানে তিন দিন আগে চিড়া–মুড়ি–গুড় নিয়ে সমাবেশে এসেছে মানুষ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দেশে নির্বাচন-নির্বাচন খেলা আর হবে না। ব্যর্থতার সব দায়-দায়িত্ব নিয়ে এখনই পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। সেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। আন্দোলন করতে হবে দেশের জনগণের স্বার্থে। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

দেশে চলমান সংকটের জন্য সরকার দায়ী উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিনা ভোটের সরকার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। চুরি, দুর্নীতির কারণে এসব হয়েছে। রিজার্ভ খেয়ে ফেলেছে। টাকা পাচার করেছে। খাদ্যশস্য আমদানি কমে গেছে। আমদানি করার জন্য যে পরিমাণ ডলার দরকার, সেই পরিমাণ ডলার নেই। রেমিট্যান্স পাঠানো কমে গেছে। এই সংকটের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ সরকার।

সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ। বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এ কে এম মাহবুবর রহমান, হেলালুজ্জামান তালুকদার, বগুড়া–৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনসহ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।