রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: নিয়োগ বন্ধের দাবির জেরে বিএনপিপন্থী এক কর্মচারী নেতাকে হেনস্তার অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের জনবল নিয়োগ বন্ধ রাখার দাবির এক দিনের মাথায় বিএনপিপন্থী এক কর্মচারী নেতাকে টেনেহিঁচড়ে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে।

হেনস্তার শিকার কর্মচারীর নাম মো. মাসুদুর রহমান। তিনি শহীদ হবিবুর রহমান হলের নিম্নমান সহকারী হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ আন্তবিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদুর রহমানসহ পাঁচ কর্মচারী গতকাল বুধবার উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সব পর্যায়ের জনবল নিয়োগ শতভাগ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন জানান, ওই আবেদনের জেরে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অন্তত ৫০ জনের দল শহীদ হবিবুর রহমান হলে প্রবেশ করে। তারা হলের অফিস এলাকায় মাসুদুর রহমানকে ঘিরে ধরে মারধরের চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে জোর করে হল থেকে তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

একপর্যায়ে হলটির শিক্ষার্থী ও অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে যান। তখন দলটি মাসুদুর রহমানকে টানতে টানতে হলের ফটক পর্যন্ত নিয়ে যায় এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। তারা প্রায় ১০ মিনিট হল এলাকায় অবস্থান করে।

মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমি সন্ধ্যার পর নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করব। কাউকে চিনতে পারিনি, তবে হলের সিসিটিভি ফুটেজ আছে।’

ঘটনার পর মাসুদুর রহমান বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে শহীদ হবিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোতাহার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, নিয়োগ বন্ধের আবেদন করার কারণে মাসুদুর রহমানের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে একটি দল তাঁকে মারধরের চেষ্টা করে। বহিরাগত লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে দলটি চলে যায়। বিষয়টি লিখিতভাবে প্রক্টরকে জানানো হয়েছে।

ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নিয়োগ বন্ধের দাবিসংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, আবেদনটি তাঁরা পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব বিধি অনুযায়ী চলবে। প্রয়োজন হলে নিয়োগ দেওয়া হবে, আর প্রয়োজন না হলে দেওয়া হবে না।