সম্প্রতি মধ্য বেতাগী এলাকায় অবস্থিত দুই কৃষকের সূর্যমুখীবাগান দেখা হলো। বাগানজুড়েই ফুটে রয়েছে বড় বড় ফুল। ফুলে ফুলে উড়ছে মৌমাছি। বাগানের মধ্যেই মধু সংগ্রহের জন্য বসানো হয়েছে দুটি মৌবাক্স।

কৃষক মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, যে জমিটি বর্গা নিয়ে চাষ করেছেন সেটি বছরের এ সময়টাতে অনাবাদি পড়ে থাকে। তাই লাভের চিন্তা না করেই শখের বশে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেন তিনি। বিনা মূল্যে বীজ পেলেও চাষাবাদে দুই ভাইয়ের প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যেই ফুলের বীজ পরিপক্ব হবে। তিনি ধারণা করছেন, বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করে অন্তত আড়াই লাখ টাকা লাভ হবে দুই ভাইয়ের।

ইব্রাহিমের ছোট ভাই কৃষক মোহাম্মদ দিদার বলেন, বাগানে দুটি মৌবাক্স বসিয়েছেন তাঁরা। সেখান থেকে ১৫ দিন পরপর মধু সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এর আগে সূর্যমুখী চাষ না করায় তাঁদের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তারা তাঁদের সহযোগিতা করেছেন।

বেতাগী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লোকন বিশ্বাস বলেন, ‘দুই কৃষক ইব্রাহিম ও দিদারের বাগানে প্রায় ৪ হাজার সূর্যমুখী ফুলের গাছ আছে। সেখান থেকে অন্তত ২ হাজার ৮০০ কেজি বীজ পাওয়া যাবে। বীজ থেকে তেল হবে ৭০০ লিটারের বেশি। সব ধরনের খরচ বাদ দিলেও দুই কৃষকের আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হওয়ার কথা।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সহিদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় ৬০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে সূর্যমুখী ফুলের বীজ দেওয়া হয়েছে। এসব বীজে প্রায় ৭০ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষাবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, সূর্যমুখী ফুলের বীজ রোপণ থেকে শুরু করে পুনরায় বীজ সংগ্রহে ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। অনেক কম পরিচর্যা করেই সূর্যমুখী চাষে ভালো লাভ পাওয়া যায়। তাই নতুন করে অনেক কৃষক সূর্যমুখী চাষাবাদে উৎসাহিত হচ্ছেন।