প্রথম আলো: নির্বাচনের আগে সংবাদ সম্মেলন করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ আশঙ্কা করেছিলেন। এখন কী বলবেন?

মুহিবুর রহমান: আসলে এটা আমার অমূলক আশঙ্কা ছিল। প্রার্থীরা যেন ‘কালোটাকা’ ছড়িয়ে ভোটের মাঠকে প্রভাবিত করতে না পারেন, সে ব্যাপারে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার জন্য আমি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট কারচুপি হতে পারে, এমন আশঙ্কা কেউ কেউ করেছিলেন। সে জন্য আমিও শঙ্কা প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এটাই তৃপ্তি।

প্রথম আলো: পৌরসভার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মেয়র পদে জয়ী হয়েছেন। কেমন লাগছে?

মুহিবুর রহমান: এর আগে আমি উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। তাই জনপ্রতিনিধি হওয়া আমার জন্য নতুন কিছু নয়। তবে পৌরসভার প্রথম নির্বাচনেই মেয়র হয়েছি, স্বাভাবিকভাবে একটা ভালোলাগা তো আছেই। পৌরবাসী আমার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এর প্রতিদান নিশ্চয়ই আমি কাজ ও কর্মে সব সময় দেওয়ার চেষ্টা করব। যেহেতু জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি পুরোনো, তাই আগের অভিজ্ঞতা এখন কাজে লাগাতে পারব।

প্রথম আলো: পৌরসভা পরিচালনায় কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান?

মুহিবুর রহমান: যেহেতু নতুন পৌরসভা, তাই শুরু থেকেই পৌরসভাকে একটা মহাপরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে চাই। মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে শহর সাজাতে চাই। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমার উদ্যোগ থাকবে। একটা আদর্শ, গোছানো ও পরিকল্পিত পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করাই আমার মূল লক্ষ্য হবে। রাস্তাঘাটের বেহাল দূর করতে প্রথমেই উদ্যোগী হব। এ ছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নাগরিক সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সুপরিকল্পিতভাবে পৌরসভা পরিচালনা করতে চাই। শিক্ষার বিস্তার ঘটাতেও কাজ করতে চাই।

প্রথম আলো: পৌর শহরের বিভিন্ন স্থান ময়লা-আবর্জনাময়। এ ছাড়া শহরের বাসিয়া নদীর পার দখল করে অসংখ্য স্থাপনা তৈরি হয়েছে। এসব বিষয়ে আপনার কী উদ্যোগ থাকবে?

মুহিবুর রহমান: ময়লা-আবর্জনা নিয়মিত অপসারণে উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট একটি স্থানে আবর্জনা ফেলার ভাগাড় তৈরির প্রচেষ্টা শুরুতেই থাকবে। এ ছাড়া বাসিয়া নদীর পার দখলমুক্ত করতেও কার্যকর উদ্যোগ নেব। তবে এর আগে অবশ্যই নদীর পারে থাকা দরিদ্র মানুষদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।