কারখানার শ্রমিকেরা অভিযোগ করেন, আজ সকালে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের ডফার সেকশনের দুজন নিয়মিত শ্রমিক মো. হাসান ও মুরাদ হোসেনকে মালিক কর্তৃপক্ষ কারখানায় ঢুকতে বাধা দেয়। এ সময় অন্য শ্রমিকেরা একত্রিত হয়ে এর প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিক নামধারী মালিকপক্ষের লোকজন হামলা করেন। শাহীন শেখ, মনির মোল্লা, মো. জাকির হোসেন, আবদুল গনি, মনির হোসেন, হাফিজুর, বজলুর রহমানসহ ১০-১২ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে এ হামলায় অংশ নেন। হামলায় ৭ নারীসহ ১৫ শ্রমিক আহত হন, যাঁদের মধ্যে ৭ জন হাসপাতালে ভর্তি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার সহসভাপতি দুলাল মল্লিক। বক্তব্য দেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জনার্দন দত্ত, বরিশাল জেলা শাখার সদস্যসচিব মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সহসভাপতি হারুন শরীফ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি জাকির হোসেন, আইনজীবী আবু আল রায়হান, দরজি শ্রমিক ইউনিয়ন বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি তুষার সেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শ্রমিকেরা সম্প্রতি বেতনস্কেল ও কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টার দাবি আদায়ের জন্য ইউনিয়ন গঠন করার আবেদন করেছেন। এর পর থেকে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের হয়রানি-নির্যাতন করে আসছে।

অধিকারের দাবিতে সংগঠিত হওয়ায় শ্রমিকদের ওপর মালিকপক্ষের হামলার নিন্দা জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, অবিলম্বে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কারখানা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শ্রমিকদের ওপর হয়রানি-নির্যাতন বন্ধ করে দাবিদাওয়া মেনে নিতে হবে। না হলে সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।