এলাকায় অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো পাকা হয়েছে। তবে পাড়ায় ঢোকার রাস্তাটি অপ্রশস্ত থেকে গেল। এত বড় একটি পাড়া হলেও সহজে ট্রাক প্রবেশ করতে পারে না। সেই সঙ্গে প্রাইভেট কার নিয়ে ঢুকতেও সমস্যায় পড়েন চালকেরা।
মাজেদুর রহমান, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা

হনুমানতলার পূর্ব অংশ, পুলিশ লাইনস, চিড়িয়াখানা, সদর হাসপাতাল ও পশু হাসপাতাল, জুম্মাপাড়া, জলকল পূর্বপাড়া, কুকরুল, নিউ জুম্মাপাড়া এলাকা নিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এলাকা ঘুরে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কগুলো পাকা হয়েছে। নালা নির্মাণ হওয়ায় পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাও আগের থেকে ভালো হয়েছে। তবে এলাকার অলিগলির ভেতরে নিচু এলাকায় বর্ষাকালে পানি জমে যায়। প্রধান সড়ক থেকে মিঠু হোটেলের সড়কটি তুলনামূলকভাবে অপ্রশস্ত। সহজে গাড়ি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা যায় না। সেই সঙ্গে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ করা হয় না।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সেকেন্দার আলী বলেন, ‘এলাকার নাগরিক সুবিধা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। পুনরায় নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডবাসীর সহযোগিতা নিয়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করব।’ 

এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী লিটন পারভেজ জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে এলাকার মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করার চেষ্টা করব। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব।’ 

বাবুখাঁ, বালাটারী, কামারপাড়া, গণেশপুর এলাকা নিয়ে ২২ নম্বর ওয়ার্ড। সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডটির কিছু এলাকায় এখনো ধানি জমি রয়েছে। শহরের অন্য এলাকায় যেভাবে বাসাবাড়ির জন্য ভবন নির্মাণ হয়েছে, সে অনুপাতে এই ওয়ার্ডটি কিছুটা পিছিয়ে। প্রধান প্রধান সড়কগুলো পাকা হয়েছে। কিন্তু অলিগলির কিছু রাস্তা এখনো পাকা হয়নি। নালা নির্মাণ হলেও পানির প্রবাহ কম। নিচু এলাকা হওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। তবে সড়কবাতি পর্যাপ্ত রয়েছে। 

মধ্য বাবুখাঁ এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম-শহরের আবহ নিয়ে সুন্দর পরিবেশ এই ওয়ার্ডের। তবে চলাচলের জন্য রাস্তাগুলো
আরও প্রশস্ত হওয়া দরকার। সড়কবাতি বেশি করে লাগাতে হবে। আর বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনাও কিছুটা দুর্বল।

২২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর (স্বতন্ত্র) মিজানুর রহমান বলেন, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব সময় ভালো রাখার চেষ্টা
করেছেন। ওয়ার্ডবাসীকে নাগরিক সুবিধা দিতে কাজ করেছেন। পুনরায় নির্বাচিত হলে অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করবেন।

এই ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী (স্বতন্ত্র) আবদুল ওয়াহাব বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে অবহেলিত এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন। জনগণের পাশে থাকবেন।

২৪ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে উঠেছে শহরের গুপ্তপাড়া, বৈরাগীপাড়া, মাছুয়াপাড়া, তাঁতীপাড়া, মন্থনা জিএল রায় রোড, কামালকাছনার দক্ষিণাংশ নিয়ে। এই ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গুপ্তপাড়ার সড়কগুলো বেশ প্রশস্ত। তবে বৈরাগীপাড়ার অলিগলির রাস্তা সংকীর্ণ। এ ছাড়া পাড়ার সড়কগুলো বেশ নিচু। ফলে বর্ষাকালে পানি সরে যেতে সময় লাগে। 

এই ওয়ার্ডের গুপ্তপাড়ার বাসিন্দা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সদরুল আলম বলেন, বর্তমানে এলাকার রাস্তাগুলো ভালো হয়েছে। সড়কবাতিও পর্যাপ্ত। তবে পয়োনিষ্কাশনের জন্য নালাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি। 

ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মীর জামাল উদ্দিন সম্প্রতি মারা গেছেন। তাঁর পদটি বর্তমানে শূন্য। দুজন সম্ভাব্য প্রার্থী আছেন। তাঁদের একজন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ওয়ার্ডের কিছু কিছু এলাকা নিচু। তিনি নির্বাচিত হলে নিচু এলাকাগুলোয় পানি যাতে আটকে না থাকে, এ জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে চেষ্টা করবেন। 

আরেক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ও জাতীয় পার্টি ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সহসভাপতি হাফিজ আহমেদ বলেন, তিনি এলাকার উন্নয়নমূলক কাজগুলো গুরুত্বসহকারে করার চেষ্টা করবেন।