মাগুরায় বোনের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ওই জমি দখল করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা অবশ্য জানিয়েছেন, ওই কার্যালয় সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না।

ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা পৌর এলাকার দেড়ুয়া গ্রামে ইটখোলা বাজারের পাশে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রিমুল মিয়া। আর জমি দখলের এই অভিযোগ দিয়েছেন তাঁরই বোন চামেলী বেগম। তাঁরা দুজনই দেড়ুয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার সন্তান।

ঘটনাটি ঘটেছে পৌর এলাকার দেড়ুয়া গ্রামে ইটখোলা বাজারের পাশে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রিমুল মিয়া।

চামেলী বেগম বলেন, তাঁরা চার বোন ও দুই ভাই। পৈতৃক সূত্রে তাঁরা চার বোন বাড়িতে সাড়ে ১২ শতাংশ ও মাঠে পৌনে ৫ শতাংশ জমি পেয়েছেন। এসব জমির মালিকানার সব কাগজ তাঁদের নামে থাকা সত্ত্বেও ছোট ভাই রিমুল মিয়া প্রভাব খাটিয়ে সেসব জমি দখল করে রেখেছেন। বিশেষ করে এক বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর বোনদের আর নিজের জমিতে ঢুকতে দেন না রিমুল। এক মাস মতো আগে ইটখোলা বাজারসংলগ্ন ১৪৩ দেড়ুয়া মৌজার জমিতে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন তিনি। একই সঙ্গে জমির পাশে টানিয়ে দেওয়া হয় দলীয় একটি সাইনবোর্ড। এরপর তিনি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ওই জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইটখোলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই জমির পাশে টানানো রয়েছে একটি সাইনবোর্ড। এতে লেখা আছে ‘মাগুরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়। সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পৌরসভার মেয়রের ছবি রয়েছে। এ বিষয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহোল আমীন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা জানান, ওই এলাকায় তাঁদের দলীয় কোনো কার্যালয় নেই। তবে ওইখানে একটি সাইনবোর্ড দেখেছেন তবে এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

জানতে চাইলে রিমুল মিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘ওই জমি আমার। নিজের জমিতে আমি দলীয় কার্যালয় তো দিতেই পারি। কে বাধা দেবে?’ দলীয় কোনো পদে আছেন কি না, এমন প্রশ্ন করলে রিমুল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির কাছে জিজ্ঞেস করতে বলেন। স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, রিমুল শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চামেলী বেগমের করা মামলার তদন্ত করছেন সদর থানার এসআই মো. ফয়জুল্লাহ। তিনি বলেন, ওই জমিতে আদালত দ্বিতীয় দফায় ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। যেটার মেয়াদ শেষ হবে ডিসেম্বরের ৬ তারিখ। জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ আছে। আর জমির সীমানার মধ্যে কোনো সাইনবোর্ড নেই, থাকলে সেটা সীমানার বাইরে। কারও আদালতের আদেশ অমান্য করার সুযোগ নেই।