হাতিয়ায় নারীর ধর্ষণের অভিযোগ যাচাইয়ে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন
নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশের কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটি গঠন করে। এর আগে ওই নারীর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে হাতিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে কোনো ভুক্তভোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও পুলিশের চাহিদাপত্র ছাড়া স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে করার সুযোগ নেই। আজ পুলিশ নারীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি জিডি করে। ওই জিডির আলোকে হাসপাতালে একটি চাহিদাপত্র (রিকুইজিশন) পাঠানো হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা তিন সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছেন।
মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা হলেন প্রসূতিবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শিরিন সুলতানা, চিকিৎসক ফাতেমা জোয়ান মুনিয়া ও চিকিৎসক তাহমিনা আক্তার। ওই বোর্ড আজ নারীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আলামত সংগ্রহ করেছেন। আজকের আলামত এবং ভর্তির দিন সংগ্রহ করে রাখা আলামত পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল কলেজের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নারীর ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে মতামতসহ একটি প্রতিবেদন দেওয়া হবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ কমিটি পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিল করবে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, নারীর অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ তাঁরা পাননি। তাঁরা অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। পেলে অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী নারী এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি সময় নিচ্ছেন। জেলা পুলিশের তরফ থেকে হাসপাতালে নারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে থানায় জিডি করে হাসপাতালে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার বেলা দুইটার দিকে হাতিয়া উপজেলার ওই নারী নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে ওই নারী দ্বিতীয় দফায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে অভিযোগ করেন, আগের দিন রাত ১১টার দিকে তিনি তাঁর এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ ঘরের দরজায় লাথির আওয়াজ হয়। তখন তিনি দরজা খুলতেই একই এলাকার তিন ব্যক্তি ঘরে ঢুকেই বলেন, ‘এনসিপি কইরচস? এনসিপির স্বাদ আজকে দেখাচ্ছি।’ এরপর তাঁর স্বামীকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।
ওই নারী যাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন, সেই ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রথম আলোর কাছে তিনি দাবি করেছেন যে ওই রাতে এলাকায় মারামারির ঘটনায় এনসিপির কর্মীদের হামলায় তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার প্রমাণও দেখান তিনি।
অপর দিকে ঘটনাটিকে একটি দলের মিথ্যা প্রচার ও চক্রান্তমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে জেলা বিএনপি বিবৃতি দিয়েছে। আজ বিকেলে জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল হাসান পলাশের সই করা চিঠিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ ওই বিবৃতি দেন। তাতে তাঁরা উল্লেখ করেন, ‘একটি নিছক সমসাময়িক ঘটনাকে ধর্ষণের ঘটনায় রূপান্তরের প্রচেষ্টা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। হাতিয়ায় অসংখ্য বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সংখ্যালঘুদের বাড়ি বাড়ি হামলা হয়েছে। আমরা সহনশীলতায় বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক রায় মেনে নিয়ে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাই।’