মূলত বর্ষাকালে বর্ষা মৌসুমে আমনের আবাদ হয়। তবে এবার বৃষ্টি কম হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১-১৯ জুলাই পর্যন্ত মেহেরপুরে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৬৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার। অথচ গত বছরের (২০২১) ওই সময়ে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৯৬ দশমিক ৩ মিলিমিটার।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোপণ মৌসুমের আগে আমনের বীজতলা প্রস্তুত করতে হয়। তখন জমিতে পাট চাষ করেন। বর্ষার শুরুতে জমি থেকে পাট কাটা হয়। এরপর আমনের জন্য জমি প্রস্তুত করা হয়। মূলত বৃষ্টির পানিতে কৃষকেরা রোপা আমন চাষ করে থাকেন। সাধারণত চারার বয়স ২৫-৩০ হলে জমিতে রোপণ করা হয়। কিন্তু অনেক কৃষকের চারার বয়স দেড় মাস পেরিয়ে গেছে। বৃষ্টি না থাকায় চারা রোপণ করতে পারেননি।

গত সোমবার সদর উপজেলার আমুঝপি, বারাদী, শিবপুর, কালিগাংনী, পিরোজপুর, শোলমারি ও শোভরাজপুর, গাংনী উপজেলার, রাধাগোবিন্দপুর, খাশমোহল, রংমহলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানি না থাকায় বেশির ভাগ জমিই অনাবাদি হিসেবে পড়ে আছে।

গাংনী উপজেলার রাধাগোবিন্দপুর এলাকার কৃষক তাজলু ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পানির অভাবে জমির পাট কেটে ধান রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ধানের চারা জমিতে থেকে হলুদ হয়ে পড়েছে। শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে চারা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি না হলে পাটও কেটে পচানো যাবে না। ধানও রোপণ করা যাবে না। বীজতলায় চারার বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় সেগুলোও নষ্টের পথে। এভাবে চলতে থাকলে আমনের চারারও সংকট দেখা দেবে।’

সড়র উপজেলার শিবপুর গ্রামের নজরুল শেখ বলেন, ‘ধানের জমিতে পানির অভাবে সব মাটি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে গিয়ে খরচ পড়ছে অনেক। ধান বিক্রি করেও খরচ ওঠানো যাবে না।’

কয়েকজন কৃষক বলেন, বোরো মৌসুমে ধান আবাদে খরচ বেশি। বিঘাপ্রতি সেচ বাবদ ৩ হাজার টাকা, সার ও কীটনাশক মিলিয়ে ৪ হাজার ২০০ টাকা। জমির বর্গা ১৫ হাজার টাকা। শ্রমিকের মজুরি বাবদ খরচ পড়ে পাঁচ হাজার টাকা। অন্যদিকে, বর্ষা মৌসুমে চাষাবাদ করায় আমন ধানে সেচ কম লাগে। অন্য খরচও কম হয়। এ কারণে আমন আবাদে লাভ হয় বেশি। আমন মৌসুমে এক বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের ৩০-৩৫ মণ ধান পাওয়া যায়। বর্তমান বাজারে এই ধানে দাম মণপ্রতি এক হাজার টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মেহেরপুর কার্যালয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) এ কে এম কামরুজ্জামান বলেন, আমন ধানের চারা রোপন করার সময় ১৫ জুলায় পর্যন্ত হলেও চলতি মাসের শেষ সময় পর্যন্ত রোপন করা সম্ভব হবে। এ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে চারা রোপণে কোন ধরনের সমস্যা হবে না।

ওই কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সামছুল আলম বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ধানে সেচ দিতে কৃষককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেচ দিতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন