রাত সোয়া ১২টার কথা। পৌষের হাড়কাঁপানো শীত চারদিকে। হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করেই গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার মাঠে তখন হাজারো মুসল্লির জটলা। কেউ বাসে, কেউ ট্রাকে, আবার কেউ পিকআপ ভ্যানে চড়ে এসেছেন ইজতেমা মাঠে। ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হতে এখনো দুই দিন বাকি। তবে ইতিমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইজতেমা মাঠে মুসল্লিরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। তবে রাত থেকে মুসল্লিদের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে আলাদাভাবে। তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধী হিসেবে পরিচিত মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা পালন করবেন জানুয়ারির ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ। আর সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা ইজতেমা করবেন জানুয়ারির ২০, ২১ ও ২২ তারিখ। কাজেই ইতিমধ্যে আগত মুসল্লিরা সবাই প্রথম ধাপের বা মাওলানা জুবায়েরের অনুসারী।

গতকাল রাতে ইজতেমা মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ৮টি সড়ক, ৫টি ভাসমান সেতুসহ মোট ১৩টি প্রবেশপথ রাখা হয়েছে৷ প্রায় প্রতিটি প্রবেশপথেই মুসল্লিদের জটলা। তাঁদের সবার সঙ্গে ব্যাগ আর গাট্টিবোঁচকা। সবাই দল বেঁধে প্রবেশ করছেন মাঠে। পুরো মাঠে তখন জ্বলে উঠেছে বৈদ্যুতিক বাতির আলো। মাঠে ঢুকেই নিজ নিজ খিত্তায় (নির্ধারিত জায়গা) অবস্থান নিচ্ছেন মুসল্লিরা।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গীর মন্নুগেট-কামারপাড়া সড়কের ১ নম্বর ফটকের সামনে এসে থামল কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে আসা দুটি যাত্রীবাহী বাস। দুটি বাসের সবাই ইজতেমায় যোগ দিতে এসেছেন। বাস থেকে নেমে আসার পর কয়েকজন মুসল্লির সঙ্গে কথা হলো। মুসল্লিরা বললেন, তিন বছর পর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর মাঠের পরিবেশ বা প্রস্তুতির বিষয়ে তাঁরা জানেন না। জায়গা পেতে যেন সমস্যা না হয়, তাই আগেভাগে চলে এসেছেন। শীতের প্রকোপ থাকলেও দীর্ঘদিন পর ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁরা বেশ উচ্ছ্বসিত।

নরসিংদীর মনোহরদী এলাকা থেকে আসা মো. মমতাজ উদ্দিন নামের এক মুরব্বি বলেন, ‘আগে না আসলে জায়গা পাইতে খুব ঝামেলা হয়। গতবার (২০২০) মাঠে জায়গা পাই নাই। রাস্তায় রাত কাটাইতে হইছে। হেই লাইগ্যা এবার আগে চইল্যা আইছি।’

জুবায়েরের অনুসারীদের মিডিয়া সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা জহির ইবনে মুসলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সাথিরা গতকাল সকাল থেকেই আসতে শুরু করেছেন। তবে গতকাল রাত থেকে আসছেন সবচেয়ে বেশি। এবার রেকর্ডসংখ্যক লোক হবে বলে আশা করছি।’

এদিকে গত দুই দিনে মাঠে মুসল্লিদের পাশাপাশি পুরো এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাফিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ইজতেমা ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক মাঠের দিকে নজর রাখছেন।