নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে ৩০টির বেশি স্থানে দলের নেতা–কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিএনপির নেতা–কর্মীরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পরাজিত প্রার্থী সারজিস আলম।
আজ শুক্রবার বিকেলে সারজিস আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এমন অভিযোগ তুলে পোস্ট করেছেন। এতে তিনি যাঁরা অতি উৎসাহী হয়ে এসব কাজ করছেন, তাঁদের সংশোধিত হওয়ার এবং অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সারজিস আলম তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘এখন পর্যন্ত পঞ্চগড়-১ আসনে প্রায় ৩০ প্লাস জায়গায় বিএনপির নেতা–কর্মীরা আমাদের নেতা–কর্মীদের উপর, তাদের বাড়িঘরে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে, হুমকি দিয়েছে। অনেকে পালিয়ে আছে। বিএনপি কি এখনো পুরোনো কায়দায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় কি না, সেটা বিএনপিকে স্পষ্ট করতে হবে। আমরা রাজনীতি করতে এসেছি। পুরোনো নোংরা রাজনৈতিক কালচারগুলোকে পরিবর্তন করে নতুন রাজনীতি করতে এসেছি। ক্ষমতা চিরস্থায়ী কোনো বিষয় নয়। যারা অতি উৎসাহী হয়ে এই কাজগুলো করছেন, তাদেরকে সংশোধন হওয়ার আহ্বান করছি। অতীত থেকে শিক্ষা নেন। মনে রাখবেন, এক মাঘে শীত যায় না।’
এ বিষয়ে সারজিস আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আমাদের বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নেতা–কর্মীদের কারও বাড়িঘর, আবার কারও দোকানে হামলা করা হয়েছে। বেশির ভাগ হামলার সময় আমাদের কর্মীদের গায়ে আঘাত করা হয়েছে। এর মধ্যে আটোয়ারী উপজেলার ধামোর, গোবিন্দপুর, সুখ্যাতি, বড়সিঙ্গিয়া, রামপুর, রানীগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা, মীড়গড়, জিয়াবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
সারজিস আলম আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন করব। বিএনপির নেতা–কর্মীদের এমন হামলা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারজিস আলম মূলত মব সৃষ্টি করার জন্য নির্বাচন করেছেন। এখন আমাদের বিজয়ী প্রার্থী নওশাদ জমিরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এমন ভিত্তিহীন কথা ছড়ানো হচ্ছে। এ রকম হামলার ঘটনা কোথাও ঘটেনি। যদি এ রকম ঘটে থাকে, তাহলে এসবের ছবি-ভিডিও দেখাক।’
এদিকে আজ বিকেলে আটোয়ারী পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে স্বেচ্ছাসেবক দলের আটোয়ারী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুর রহিম (রিপন) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় বিএনপির নেতা–কর্মীরা শাওন তানজির নামের ছাত্রশক্তির এক নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। আহত আবদুর রহিমকে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।