ভোটের পর এক মাস নিরাপত্তা দাবি আদিবাসী পরিষদের

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের গণকপাড়া এলাকায়ছবি :প্রথম আলো

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগে ও পরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। বিশেষ করে ভোটের পর অন্তত এক মাস নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরের গণকপাড়া এলাকায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মারান্ডি। তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

গণেশ মারান্ডি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ ভোটের সময় ও ভোটের পর নানা ধরনের হয়রানি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আদিবাসীও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁরা নিরাপদভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, জোরপূর্বক ভোট আদায় এবং ভোট না দিলে পরবর্তী সময়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, এমন আশঙ্কা তাঁদের মধ্যে কাজ করছে। এই অবস্থা বিরাজমান থাকলে তাঁদের নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার বঞ্চিত হবে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন, সিসিটিভি মনিটরিং চালু, সহিংসতা ও হুমকির ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোটের পর অন্তত এক মাস আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এক প্রশ্নের জবাবে গণেশ মারান্ডি বলেন, অনেক সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, একাধিক রাজনৈতিক দল থেকে ভোট চাওয়া হচ্ছে। ভোট না দিলে ভবিষ্যতে হয়রানির আশঙ্কা থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তাঁরা শুধু চান ভোট দেওয়ার সময় এবং পরে যেন লাঞ্ছিত না হতে হয় এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের পর কারা কাকে ভোট দিয়েছেন, এটি জানাজানি হলে যাদের ভোট দেওয়া হয়নি, তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর গালিগালাজ, হুমকি কিংবা নানা ধরনের হয়রানিতে জড়াতে পারে। এখনো বড় কোনো হামলার ঘটনা না ঘটলেও আদিবাসীরা গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাই ভোটের পর অন্তত এক মাস নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনকে ভয়ভীতিমুক্ত, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস (আনু), রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক মুকুল বিশ্বাস, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার, গোদাগাড়ী উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমরম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাওন ভূঁইয়া, এলিনা আগ্নেশ তৃণা মুরমু প্রমুখ।