আম্মার ও শিবির নেতাদের কর্মকাণ্ডে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের উদ্বেগ

বেলচা হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। গত সোমবার বিকেলেফাইল ছবি

রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও শিবিরের নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তারা এ উদ্বেগ জানায়।

সংগঠনটি এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, ট্যাগিং, নির্যাতন ও হেনস্তার যে সংস্কৃতি শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ছিল, তা নতুন পরিচয়ে ফিরে আসছে আম্মার ও শিবির নেতাদের দৌরাত্ম্যে।

আরও পড়ুন

গতকাল বুধবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। একই সঙ্গে বিবৃতিটি উপাচার্যের কাছে জমা দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও শিবিরের নেতারা তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধর করেন। পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাকসুর দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রাকসুর জিএস ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা এবং উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ক্যাম্পাস-সহিংসতা নয়; এটি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইনের শাসন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রক্টর দপ্তর, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং আহত ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দফায় দফায় মারধরের মতো ঘটনা ঘটেছে।

কোনো অভিযোগের বিচার করার দায়িত্ব ছাত্রসংগঠন বা অন্য কোনো গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। কোনো অভিযোগের বিচার করার দায়িত্ব যদি ছাত্রসংগঠন বা অন্য কোনো গোষ্ঠী নিজের হাতে তুলে নেয়, তাহলে সেটি আইনের শাসনের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন

শিক্ষক নেটওয়ার্কের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ট্যাগিং করে ‘মব জাস্টিসের’ শিকার করেছেন সালাহউদ্দিন আম্মার ও শিবির নেতারা। বিবৃতিতে বলা হয়, রাকসুর দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করা। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রাকসুর জিএস ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের হেনস্তা এবং উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া লাঠি নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, পোষ্য কোটা আন্দোলনের সময় তৎকালীন সহ-উপাচার্যকে হেনস্তা এবং প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় রাকসুর জিএস ও ভিপির উসকানিমূলক ভূমিকার অভিযোগও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন