নিকটাত্মীয়ের পরিকল্পনায় শিশুকে অপহরণ, আটকে রাখা হয় ভাড়া বাসায়
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় স্কুল থেকে ফেরার পথে অপহৃত সাত বছর বয়সী এক শিশুকে দুই দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে ভাড়া বাসায় আটকে রাখার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এর আগে সকালে উপজেলার সরফভাটা গ্রামের ইত্যাদি মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের একজন শিশুটির বাবার মামাতো ভাই।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া শিশুটি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকার একটি বিদ্যালয়ের নার্সারির শিক্ষার্থী। গত সোমবার সকালে স্কুলে যায় সে। অন্যদিন ছুটির পর দুপুরে সে বাড়ি ফিরত। তবে ওই দিন আর সে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এরপর ওই দিন শিশুটির বাবা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, ওই দিন শিশুটি বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে এক ব্যক্তি তার সামনে আসেন। এরপর তিনি শিশুটিকে বলেন, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁকে (অটোরিকশাচালককে) বাবার কাছে নিয়ে যেতে পাঠানো হয়েছে। কথাটি বিশ্বাস করে শিশুটি অটোরিকশায় ওঠে। এরপর তাকে অপহরণ করে উপজেলার সরফভাটা গ্রামের ইত্যাদি মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় আটকে রাখা হয়।
এরপর আজ সকালে ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে ফয়সাল শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনিই শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। তবে কি কারণে তিনি শিশুটিকে অপহরণ করেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির স্বজন মুহাম্মদ ফয়সাল মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের পরিকল্পনা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।