ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ফয়সাল হোসেন ও নিজাম উদ্দিন উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে বসে গল্পগুজব করছিলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে হরিরামপুর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলামের ব্যক্তিগত কর্মচারী মাসুদ রানা ও থানা পুলিশের তথ্যদাতা মামুন মিয়া সেখানে গিয়ে ওই দুই কলেজছাত্রকে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তাঁরা কাছাকাছি থাকা হরিরামপুর থানার দুই কনস্টেবল আবদুল লতিফ ও আবদুল জব্বারকে ফোনে সেখানে ডেকে নেন।

সেখানে দুই কলেজছাত্র ও দুই কনস্টেবলের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। এ সময় ওই দুই কনস্টেবল দুই ছাত্রকে কিলঘুষি দেন এবং বাঁশ দিয়ে পেটান। একপর্যায়ে দুই কলেজছাত্রকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন চড়াও হলে দুই ছাত্রকে রেখে তাঁরা চলে যান। এরপর আহত দুই ছাত্রকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সেখান থেকে নিজামকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফয়সালকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কলেজছাত্র ফয়সাল হোসেন বলেন, মাসুদ ও মামুন নামের দুই যুবক এসে তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁরা এখানে বসে গাঁজা সেবন করছেন কি না। তখন তাঁরা দুই বন্ধু প্রতিবাদ করলে মাসুদ তাঁর প্যান্টের পকেটে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে মাসুদ ও মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশের দুই কনস্টেবল সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের দুই বন্ধুর হাতে হাতকড়া লাগিয়ে দেন। এ সময় প্রতিবাদ করলে দুই কনস্টেবল তাঁদের মারধর শুরু করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কনস্টেবল আবদুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। কনস্টেবল আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাই নিউজ কইরেন না, আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা বলব।’

ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম বলেন, গাঁজা দিয়ে ফাঁসানোর মতো কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। তবে নিজাম ও ফয়সাল নামের দুই যুবকের সঙ্গে মামুন নামের এক যুবকের মারামারি হয়েছে।

বিষয়টি জানার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান ঘটনা তদন্তে হরিরামপুর থানায় যান। আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ওই দুই কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।